প্রবাস | The Daily Ittefaq

জামিনে মুক্ত শাহেদুল ইসলাম

জামিনে মুক্ত শাহেদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র১৪ জুন, ২০১৭ ইং ১৬:৫১ মিঃ
জামিনে মুক্ত শাহেদুল ইসলাম
ফাইল ছবি
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জামিন পেলেও আদালত তার পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। 
 
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে শাহেদুল ইসলাম নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ভারনন সি বেইন কারেকশনাল সেন্টার থেকে বের হয়ে আসেন। 
 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান ইত্তেফাককে জানান, সোমবার বিচারক শাহেদুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু জামিনের শর্তপূরণ, বিশেষ করে ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করতে একটু সময় লেগে যায়। বন্ড জোগাড় হলেও ততক্ষণে বিচারক আদালত ছেড়ে যান। ফলে সোমবার শাহেদুল ইসলাম মুক্তি পাননি। মঙ্গলবার প্রক্রিয়া শেষে ইফতারের কয়েক মিনিট আগে তিনি মুক্তি পান। 
 
শামীম আহসান জানান, শাহেদুল ইসলামের মুক্তির বিষয়টি যাতে ত্বরান্বিত হয সে ব্যাপারে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিল।
 
গৃহকর্মী নির্যাতনের কথিত অভিযোগে শাহেদুল ইসলামকে পুলিশ সোমবার গ্রেফতার করে। ১৩ মাস আগে পালিয়ে যাওয়া গৃহকর্মী রুহুল আমিন তার বিরুদ্ধে নির্যাতন ছাড়াও নিয়মিত বেতন না দেয়ার অভিযোগ করেন।
 
এদিকে শাহেদুল ইসলামের গ্রেফতারের ঘটনাটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সারাদিনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ১৩ মাস আগে গৃহকর্মী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। পুলিশ পলাতক ব্যক্তির কোনো সন্ধান না দিতে পারলেও তার কথিত অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কূটনীতিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে দিনভর নানা কথা চালু ছিল।
 
বিশেষ করে এর আগে সাবেক কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের  গৃহকর্মী  মাসুদ পারভেজ পালিয়ে যাবার পর একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় কূটনৈতিক দায়মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান মনিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে মাসুদ পারভেজ রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
 
মাসুদ পারভেজের পথ ধরে রুহুল আমিনও বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে রুহুল আমিন পালিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবহিত করা এবং ১৩ মাস পরে কথিত অভিযোগ দায়ের করায় এই মামলায় শাহেদুল ইসলামের নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 
 
এদিকে আগে পালিয়ে যাওয়া গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ এবং সর্বশেষ পালানো রুহুল আমিনের ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত দাবি করেছেন প্রবাসের অনেকেই। শাহেদুল ইসলামের গ্রেফতারের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা লিখেছেন, গ্রিনকার্ড লাভের আশায় অসুস্থ প্রক্রিয়া গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। সরকারের উচিৎ এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, এভাবে গৃহকর্মী বিদেশে নেয়ার ব্যাপারে সরকারের একটি স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা দরকার।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি
-
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫৩
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯