প্রবাস | The Daily Ittefaq

এথেন্সে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ

এথেন্সে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ জুলাই, ২০১৭ ইং ০০:১৬ মিঃ
এথেন্সে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ

গণতন্ত্রের পাদপীঠ গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে গ্রীসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: জসীম উদ্দিন এথেন্সের মেয়র জর্জিয়াস কামিনিসের সঙ্গে এক বৈঠকে এথেন্সে শহীদ মিনার স্থাপনের প্রস্তাব করেন।

গ্রীসের কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা এবং সম্প্রসারণে বাংলাদেশ দূতাবাসের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এথেন্সের মেয়রের সঙ্গে এই বৈঠক করেন। বৈঠককালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র মেয়রকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও গ্রীসের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এ সম্পর্ক আরো বহুমুখী ও বেগমান করতে স্থানীয় সরকারের সম্পৃক্ততার আহবান জানান।

বৈঠকে ব্যবসা, বাণিজ্য সংস্কৃতি, পর্যটন ইত্যাদি বিষয় স্থান পায়। বৈঠকে দূতাবাসের প্রথম সচিব সুজন দেবনাথ এবং মেয়রের অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এন্টিগনি কতানিডিস উপস্থিত ছিলেন।

এথেন্সের প্রাণকেন্দ্র ওমোনিয়াই বেশির ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি বাস করে। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন, ঈদের নামাজ আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এথেন্স সিটি কর্পোরেশন সবসময়ই প্রবাসী বাংলাদেশের সহযোগিতা করে আসছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এথেন্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করেন।

মেয়র জর্জিয়াস কামিনিস রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের বিষয়ে তার ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসনের ’বাংলাদেশ’ গানটির কথা স্মরণ করে সব সময় বাংলাদেশিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালে গ্রীসের মানোলাদায় সংগঠিত মর্মান্তিক ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মানোলাদা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রমিক এবং খামার মালিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য দূতাবাস বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তিনি গত বছর মানোলাদায় আয়োজিত ’প্রথম বাংলাদের গ্রীস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ শ্রমিক মালিকদের অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীসহ গ্রীক সরকারের সার্বিক সহযোগিতার কথা মেয়রকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেয়রকে ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কথা উল্লেখ করে এথেন্সের কুমুদুরু পার্কে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, প্রাচীন সভ্যতার দেশ গ্রীস গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের তীর্থভূমি। এই নগরে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন ভাষার প্রতি গ্রীসের মমত্ববোধ প্রকাশ পাবে অন্যদিকে পর্যটকদের জন্যও এই শহীদ মিনার একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত হবে। শহীদ মিনারের গঠন, আকৃতি ইত্যাদি ব্যাখা করে রাষ্ট্রদূত মেয়রকে শহীদ মিনারের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন।

এথেন্সের মেয়র শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রেরণের কথা বলেন। এ বিষয়ে শ্রীঘ্রই দূতাবাস থেকে মেয়রকে আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করা হবে বলে দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:০৯