প্রবাস | The Daily Ittefaq

লিবিয়ায় বাংলাদেশি জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ঢাকায় ছয় প্রতারক গ্রেফতার

লিবিয়ায় বাংলাদেশি জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ঢাকায় ছয় প্রতারক গ্রেফতার
ইত্তেফাক রিপোর্ট১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৫৫ মিঃ
লিবিয়ায় বাংলাদেশি জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ঢাকায় ছয় প্রতারক গ্রেফতার

লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জিম্মি করে প্রতিনিয়ত মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এভাবে প্রায় কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায়কারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলো— কামাল উদ্দিন (৩৯), নাজনীন বেগম (৩৫), আবু কাশেম (৩৫), বেবী আক্তার (৩৫), মামুন মিয়া (৪২) ও মোঃ নুরুল হক (৪৫)। গতকাল এক ব্রিফিংয়ে পিবিআই এ কথা জানায়।

গত ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সময়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভৈরবপুর এবং নরসিংদীর রায়পুরা থানার মাহমুদাবাদ পাগলা বাজার ও জংলী শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর টিম।

নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার তছলিম প্রামাণিকের ছেলে আইয়ুব আলী ২০১২ সালে চাকরির উদ্দেশ্যে লিবিয়া যায়। সেখানে সে একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরি করে। গত ২১ জুলাই ছেলে তছলিমকে মোবাইলের মাধ্যমে জানায়, বাংলাদেশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে তার সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট নিয়ে গেছে। তাকে অজ্ঞাতস্থানে আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে।

তছলিম জানান, তার মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করে ইমোতে তার ছেলেকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে বিকাশ নম্বর দিয়ে ৫ লাখ টাকা পাঠাতে বলে। তিনি অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা তার ছেলেকে ছেড়ে না দিয়ে একইভাবে আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতনের ভিডিও দৃশ্য দেখাচ্ছিল।

একই জেলার পত্নীতলা থানার রব্বানীর ভাই রুবেলের ক্ষেত্রেও ঘটে একই ঘটনা। তিনিও ২০১৩ সালে লিবিয়া যান। সেখানে গিয়ে তিনি টাইলস মিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত ২১ জুলাই অপহরণকারীরা রুবেলকে অপহরণ করে তার ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। রব্বানী তার ভাইকে মুক্ত করার জন্য অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু অপহরণকারীরা তার ভাইকে ছেড়ে না দিয়ে একইভাবে আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করছিল। এ দুটি ঘটনার ভিকটিমের পরিবার পিবিআই ঢাকা মেট্রোর কাছে সহযোগিতা চায়। পিবিআই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ঐ সংঘবদ্ধ চক্রের বাংলাদেশে থাকা অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে ৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুটি বিকাশ এর ক্যাশ ইন রেজিস্টার, দুটি বিকাশের ক্যাশ আউট রেজিস্টার, দুটি মোবাইল ফোন সেট, তিনটি বিকাশ করা সিম কার্ড ও ১ টি গ্রামীণফোনের পাওয়ার লোডের টালি বই উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, লিবিয়ায় অবস্থানরত অপহরণকারী চক্র ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমদেরসহ আরো অজ্ঞাতনামা শতাধিক বাংলাদেশিকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ইমোতে দেখিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণের টাকা আদায় করে। টাকার বিনিময়ে এই চক্রের হাত থেকে মুক্তি মেলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তাদের চাহিদা মতো টাকা না পেলে জিম্মি করা ব্যক্তিকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০