প্রবাস | The Daily Ittefaq

মুক্তিযোদ্ধারা কানাডায় বসবাসের অযোগ্য আর বঙ্গবন্ধুর খুনিরা নাগরিক!

মুক্তিযোদ্ধারা কানাডায় বসবাসের অযোগ্য আর বঙ্গবন্ধুর খুনিরা নাগরিক!
কানাডা প্রতিনিধি২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ১৩:৪৭ মিঃ
মুক্তিযোদ্ধারা কানাডায় বসবাসের অযোগ্য আর বঙ্গবন্ধুর খুনিরা নাগরিক!
 
১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়ার কারণে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অযোগ্য আর বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী ‘জামাই আদরে’ বসবাস করছেন এবং জেলহত্যার আসামী কিসমত হাশেমরা পেয়েছেন কানাডার নাগরিকত্ব!
 
অবাক করা ঘটনা হচ্ছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৌফিকুল আরিফের জন্য তার ছেলে ফয়সাল আরিফ ইমিগ্রেশনের জন্য ২০০৭ সালে আবেদন করেন। দীর্ঘ দশ বছর পর (পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গেরিলা লড়াইয়ে অংশ নেয়ার অভিযোগে) তার আবেদন কানাডা ইমিগ্রেশন প্রত্যাখ্যান করে বাতিল করে দিয়েছে!
 
তৌফিকুল আরিফের আইনজীবী ছিলেন খ্যাতিমান ব্যরিষ্টার রেজাউর রহমান, এ বিষয়ে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘কানাডার ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী একজন বিদেশী নাগরিক যদি কখনো কোনো সরকারকে সহিংসতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উৎখাতের চেষ্টা করে বা কাউকে সেই প্রচেষ্টায় উৎসাহিত করে বা সেই বিদেশী নাগরিক যদি কোনো সন্ত্রাসী দলের সদস্য বা সহযোগী হয় তাহলে সে কানাডার স্থায়ী অভিবাসী বা নাগরিক হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। একটি অত্যাচারী, একনায়কতন্ত্রী সরকারকে বিরুদ্ধে সহিংস পন্থা অবলম্বন করলেও এই আইন প্রযোজ্য। এই আইনটি গণতন্ত্র বিরোধী কিন্তু তার পরেও এটি একটি আইন। 
 
তৌফিকুল আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহিংসতার মাধ্যমে পাকিস্তানী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই সময়ে কিছু মুক্তিযোদ্ধা দলগত ভাবে পাকিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় অংশ নিয়েছিল। আইনের সীমাবদ্ধতা মেনেও আমরা এই অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিনব ও শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করেছি। আমাদের যুক্তি হচ্ছে, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা কোনো সরকারকে উৎখাতের জন্য অস্ত্র হাতে নেন নাই বরং ২৬ মার্চের পরে দখলদার পাকিস্তানী সস্ত্রবাহিনী ও তাদের দোসর, আলবদর, আলশামস আর রাজাকারদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা থেকে তাদের নিজেদের দেশ বাংলাদেশ ও তাদের নিজেদের সরকারের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছে। 
 
পৃথিবীর সব দেশ, এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ আইনগত ভাবে স্বাধীন এই সত্য মেনে নিয়েছে, তাহলে ঐ তারিখের পরে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সরকার থাকে কি করে? যারা ছিল তারা অবৈধ দখলদার। আমাদের আরেকটি জোরালো যুক্তি হচ্ছে যে পৃথিবীর কোনো দেশে প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়নি। নিজের দেশ ও তার জনগণকে আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অপরাধ হতে পারেনা যতক্ষণ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হচ্ছে। আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের সংকটময় মুহূর্তেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কানাডার ফেডারেল কোর্টে শুনানির সুযোগ না পেলেও আমরা কানাডার সরকারের কাছে আইনের যুক্তিসহ তৌফিকুল আরিফের আবেদন উপস্থাপন করছি। সাফল্য অর্জন না করা পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
 
সিবিসি নিউজ, অটোয়া থেকে জানা যায়, সাধারণত ইমিগ্রেশনের আবেদন নাকচ হলে তার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকে, কিন্তু তৌফিকুল আর কোনো আপিলও করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬