প্রবাস | The Daily Ittefaq

রাশিয়াতে বাংলাদেশি ছাত্রদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

রাশিয়াতে বাংলাদেশি ছাত্রদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন
বারেক কায়সার, রাশিয়া থেকে২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং ২২:৫৭ মিঃ
রাশিয়াতে বাংলাদেশি ছাত্রদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

“লেভ তলস্তয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় বাংলা রচনা লেখার সময়। সে সময় বাংলা রচনায় আমরা বিভিন্ন কোটেশন ব্যবহার করতাম, সেখানে প্রথম তার ‘ওয়্যার এন্ড পিচ’ বইটি সম্পর্কে জানতে পারি। তার কয়েকবছর পর বইটির অনুবাদ পড়েছিলাম। সে সময় বইটি না বুঝলেও অনেক পরে যখন আবার বইটি পড়ি তখন বুঝতে পারি কি গভীর জীবনবোধ, বিশাল বইটির পরতে পরতে পাতায় পাতায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে মানবতা, কলমের সূক্ষ্ম খোঁচায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন যুদ্ধের চেয়ে শান্তি বড়।” এসব কথা এক নিশ্বাসে বলছিলেন মস্কোর ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আকিকুল ইসলাম লিয়ন।  

কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়ার সাথে পরিচয়ের শুরু আমার লেভ তলস্তয় দিয়ে। তারপর আন্তন চেখভ, ফিউদর দস্তভয়স্কি আর মেক্সিম গোর্কি মিলে আমার ভেতরে একটা ঘোর তৈরি করে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর শিল্পের সাথে বিপ্লব, সংগ্রাম রাশিয়ায় বেড়ে উঠেছে একসাথে, অনেকটা ঠাসাঠাসি করে। দেশটি নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহ আর ভালোবাসার চূড়ান্ত পরিনতি লাভ করে ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, এ দিন লিয়নের সঙ্গে প্রথম রাশিয়ার পরিচয় হয়। আর সেই প্রথম পরিচয়েই প্রেম!

প্রতি বছর রাশিয়ান সরকার বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় অর্ধশত বৃত্তি প্রদান করে (গত বছর ৬৩ জন পেয়েছে)। লিয়ন এই বৃত্তিধারী একজন হিসেবে পড়তে আসেন ইতিহাসের আঁতুড়ঘর মস্কোতে। পড়াশোনার বিষয় বিমান প্রকৌশলী (এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)। পড়তে হবে রাশান ভাষায়, ৪ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং আর এক বছর ভাষা কোর্স, মোট ৫ বছর। প্রথম দিকে ভাষার সমস্যা একটু হলেও সময়ের সাথে সাথে তা কেটে যায়।

বরফ, ঠান্ডা আর শ্বেত ভল্লুকের সাথে রাশিয়াকে পারমাণবিক বোমা আর যুদ্ধ বিমানের দেশও বলা হয়ে থাকে। তাই রাশিয়ায় এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনার মান খুবই ভালো এবং এভিয়েশনে তাদের রয়েছে খুবই আধুনিক প্রযুক্তি। রাশিয়াতে মোট ১২টি এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তারমধ্যে মস্কোতে রয়েছে ৩টি।

মস্কো এভিয়েশন ইউন্সিটিটিউট (ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি) মস্কোর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ১২০টিরও বেশী ল্যাবরেটরি রয়েছে। ৫০টি দেশের প্রায় দুই হাজার বিদেশী ছাত্র ছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে পড়াশুনা করছে।

ওয়ার্ল্ড এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জন এরও বেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করেছে যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ছিলেন। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মহাকাশে গিয়েছেন ২২ জন, টেস্ট পাইলট আছেন ১০০ জন আর ৬০ জন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি সুবিশাল বিমান তৈরির কারখানা। আর এই কারখানার বেশীরভাগ প্রকৌশলীই এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রছাত্রী। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন রাশিয়ার এভিয়েশন রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে এখানে ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩