প্রবাস | The Daily Ittefaq

বাঙালি জাতি কখনোই ধর্মান্ধ ছিল না: নিউইয়র্কে বক্তারা

বাঙালি জাতি কখনোই ধর্মান্ধ ছিল না: নিউইয়র্কে বক্তারা
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ১৪:০৯ মিঃ
বাঙালি জাতি কখনোই ধর্মান্ধ ছিল না: নিউইয়র্কে বক্তারা
 
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘সেক্যুলারিজম ইন বাংলাদেশ: হোপ ফর ইউনিটি, পিস এন্ড জাস্টিস' শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ‘বাঙালি জাতি কখনোই ধর্মান্ধ ছিল না। এ কারণে আমরা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শামসুর রাহমানকে পেয়েছি।’
 
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা অংশ নেন। মুক্তিযুদ্বের চেতনায় উজ্জীবিত এবং অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশের লক্ষ্যে জ্ঞানের শিখার দ্যুতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট যুক্তরাজ্যের (ইউকে) সভাপতি এবং সেমিনারের মুল প্রাবন্ধিক পুষ্পিতা গুপ্তাসহ উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনেরা। সেমিনারে আয়োজক সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শুভ রায়ের স্বাগত বক্তব্যের পর সেমিনারের সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস।
 
সেমিনারে মল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সমপ্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বর্বরোচিত হামলা, নিপীড়ন, নিযার্ত সহ তথ্যবহুল ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে পুষ্পিতা গুপ্তা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং সেসময় নির্যাতিত-নিপীড়িত পরিবার পরিজনদের সাথে সবিস্তারে কথা বলেন তিনি। এ সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ, বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় সংঘটিত সামপ্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিবেশীদের বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির তথ্যচিত্র সংগ্রহ করেন।
 
মূল প্রবন্ধে পুষ্পিতা গুপ্তা বলেন, অধিকাংশ সময় একজন সাধারণ গৃহিণী ও নির্যাতিতা নারী প্রচ্ল মানসিক সংকটের কারণে, বিচারকার্য বা বিচারের প্রাথমিক প্রধান কাজগুলো সম্পন্ন করতে অপারগ থাকেন। এমতাবস্থায় সংঘটিত অপরাধের সঠিক আলামতই, পরবর্তীকালে বিচার কার্যের প্রধান অন্তরায় হয়ে ওঠে। সুতরাং শুধুমাত্র সরকার, শাসন, বিচার ব্যবস্থার সমালোচনার পাশাপাশি, সুচিন্তিত বিচারের লক্ষে ভিকটিমদের পাশে তাত্ক্ষণিকভাবে দাড়ানো আমাদের আশু প্রয়োজন।
 
প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠক ও শ্রমিক-শিক্ষক ড. পার্থ ব্যানার্জি বলেছেন, ‘নিজেদের ব্যর্থতার দায় ধর্মীয় কিংবা জাতিগত অথবা বর্ণগত সংখ্যালঘুর ওপর চাপানোর প্রবণতা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মত উন্নত বিশ্বের রাজনীতিক থেকে ভারতের মোদী কিংবা অন্য দেশের রাজনীতিকদেরও। বাংলাদেশে যেমন গরীব হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, ঠিক তেমনি ভারতে হচ্ছে গরীব মুসলমানদের ওপর। এই আমেরিকাতেও নিগৃহীত হচ্ছে অভিবাসীরা।’ 
 
সেমিনারে অন্যান্য আলোচকরা বলেন, যে অসামপ্রদায়িক চেতনা ও বিশ্বাসে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত রাখতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এবং তা কেবলমাত্র সম্ভব হবে প্রগতিশীল ও সত্ চিন্তার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ফলেই।
 
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে, মুল প্রবন্ধ এবং আলোচকদের আলোচনায় আলোকপাত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্লেইন্স বরো সিটির তৃতীয় বারের মত নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান ড. নূরন নবী।
 
ড. নবী বলেন, সামিজক অবক্ষয়ের প্রমান আমরা প্রতিনিয়ত পেয়ে থাকি, সামপ্রদায়িকতা বিভিন্ন সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু অতীব চিন্তার বিষয় এই যে সামপ্রদায়িক সংঘাতের পর, বিভিন্ন প্রতিবাদ ও প্রতীকি অনুষ্ঠানে আমরা আনুপাতিক হারে অনুপস্থিত। সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
 
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবী, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক শীতাংশু গুহ, নারী সংগঠক রানু ফেরদৌস, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর প্রমুখ ।
 
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বৃীকৃতি স্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ড: নূরুন নবীকে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ প্রদান করায় তাকে অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন পুষ্পিতা গুপ্তা, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি রাশেদ আহমেদ এবং আয়োজক  সংগঠনের প্রধান শুভ রায়।
 
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে। 
 

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০০
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৫