প্রবাস | The Daily Ittefaq

‘মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে’

‘মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে’
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৪:৫০ মিঃ
‘মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে’
প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মোমেন। 
 
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল প্রবাসী বাংলাদেশি, মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
 
স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। সেদিন থেকে এই স্থানটি পরিচিতি পায় মুজিবনগর নামে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য এই সরকারের কোনো বিকল্প ছিল না উল্লেখ করেন তিনি। 
 
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, মুজিবনগর সরকারের অসংখ্য চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু তা সত্তে¡ও তারা সুচারুরূপে সরকার পরিচালনা করেছেন। এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ তারা সে সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যন্ত রেখেছিলেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় এ সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছিল অত্যন্ত সফল। 
 
প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তাদের সন্তানদের মুজিবনগর পরিদর্শনের সুযোগ করে দেন সে বিষয়ে আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস জানবে, তাৎপর্য অনুধাবন করবে এবং স্থানটি ঐতিহাসিক টুরিস্ট স্পট হিসেবেও আরও গুরুত্ব পাবে। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 
 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, মুজিবনগর সরকার শুধু মুক্তিযুদ্ধই পরিচালনা করেননি, প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে বিশ্ব জনমতকে পক্ষে এনেছে। 
 
মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অধীনে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কূটনীতিকরা সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য আনেন যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন। 
 
আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ও আব্দুল বাতেন। 
 
আলোচনা পর্ব শেষে মুজিবনগর সরকারের প্রয়াত সকল সদস্য, জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। 
 
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ এ সরকারের সকল নেতৃবৃন্দের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 
 
এদিকে নিউইয়র্কে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবীবে মিল্লাত।
 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এবং কার্যকরী সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, ড. আবদুল বাতেন, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, কার্যনির্বাহী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শরাফ সরকার, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি ডা. অধ্যাপক শরাফ উদ্দিন, ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন হিরু ভূইয়া প্রমুখ। 
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. হাবীবে মিল্লাত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারকে আবারো বিজয়ী করতে হবে।
 
আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যে দল কখনো অগণতান্ত্রিক উপায়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আরোহন করেনি। নির্বাচনের মাধ্যমেই বারবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি বন্দুকের নলের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক উপায়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে।
 
মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। 
 
আলোচনা সভায় প্রবাসী নেতারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের লক্ষে দেশে গিয়ে কিংবা প্রবাস থেকে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 
 
ইত্তেফাক/কেকে
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০