প্রবাস | The Daily Ittefaq

কাঠমান্ডুর প্রাথমিক তদন্তে সন্তুষ্ট নয় ইউএস বাংলা

বিমান দুর্ঘটনা
কাঠমান্ডুর প্রাথমিক তদন্তে সন্তুষ্ট নয় ইউএস বাংলা
বিশেষ প্রতিনিধি২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ০২:০৯ মিঃ
কাঠমান্ডুর প্রাথমিক তদন্তে সন্তুষ্ট নয় ইউএস বাংলা

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেপালের তদন্ত কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বলেছেন, সকলের প্রতি আস্থা রেখে বলছি, রিপোর্টে যেসব বিষয় কভার করার কথা ছিল- তা হয়নি। রিপোর্ট মানছি না- তা বলব না। তবে রিপোর্টে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার বিএস ২১১ ফ্লাইটটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ২৭ বাংলাদেশিসহ ৫১ আরোহী মারা যান। দুর্ঘটনায় হতাহত ও পরবর্তী বিষয়াদি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার একমাস পর নেপাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি প্রাথমিক একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত হন। কিন্তু স্থানীয়  প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত প্লেনযাত্রীদের কাছ থেকে আমরা যা জেনেছি, তাতে আমাদের ধারণা প্রকৃতই দুই  মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা নিয়োজিত হয়ে থাকলে হতাহতের সংখ্যা হয়তো কম হতো।

ইমরান  আসিফ আরো বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা জেনেছেন দুর্ঘটনার আগে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে বিভ্রান্তিকর নির্দেশাবলি দেওয়া হয়েছিল। সেই টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলার বৈমানিকদের ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পর সেই ক্লিয়ারেন্স বাতিল না করেই এয়ারক্রাফটটিকে অন্যত্র হোল্ডিং করতে বলা হয় এবং একই সময় অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অবতরণ করতেও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, একটি ফ্লাইটকে দেওয়া ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স বাতিল না করেই অন্য ফ্লাইটকে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয় বলে আমরা জানি।

উড়োজাহাজে ত্রুটি ছিল না, সুস্থ ছিলেন ক্যাপ্টেন

নেপাল ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের বরাত দিয়ে সিইও ইমরান আসিফ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত প্লেনটিতে কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি ছিল না। ইউএস-বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদনেও কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল বলে প্রতীয়মান হয়নি। এছাড়া ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তার অবসাদগ্রস্ত  হওয়া কিংবা জোর করে পাঠানোর বিষয়টি অবান্তর। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর  তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে। বলা হয় বিমানটি পুরোনো ছিল, পাইলটকে জোর করে পাঠানো হয়েছে, তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তবে এসব তথ্য সঠিক নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একজন পাইলট দৈনিক ১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে পারেন। দুর্ঘটনার দিন যদি আবিদ ফ্লাইট নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসতেন তাহলে তার ফ্লাইং আওয়ার ৭ ঘণ্টার কম হতো। তার ক্যারিয়ারের মোট ফ্লাইং আওয়ার প্রায় ৬ হাজার ঘণ্টা।

ইউএস-বাংলা’র সিইও আরো বলেন, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদও কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে ইউএস-বাংলায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘আরিরাং এভিয়েশন’ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত  বৈমানিক, তার ফ্লাইং আওয়ার ছিল ৪০০ ঘণ্টার বেশি।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০