প্রবাস | The Daily Ittefaq

ইসলামাবাদে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোকদিবস পালিত

ইসলামাবাদে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোকদিবস পালিত
অনলাইন ডেস্ক১৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২২:২০ মিঃ
ইসলামাবাদে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোকদিবস পালিত

ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। চান্সারি ভবন ও এর দেয়ালে জাতীয় শোকদিবসের পোস্টার লাগানো হয় এবং অনুষ্ঠানে যোগদানকারী সকলে কালো ব্যাজ পরিধান করেন।

সকালে চান্সারি প্রাঙ্গনে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারি ও ইসলামাবাদে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকগণের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান। এরপর, শোকদিবস উপলক্ষে চান্সারি প্রাঙ্গণে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। হাইকমিশনার তারিক আহসান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শাহাদতবরণকারীদের বেশ কয়েকটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পায়। অতিথি ও দর্শক, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রদর্শনী ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

বিকেলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের বিদেহী আত্মার প্রতি উৎসর্গ করে চান্সারি প্রাঙ্গনে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া করা হয়। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ১১ জন হাফেজ কোরআন খতমে অংশগ্রহণ করেন।  


দিবসটি পালন উপলক্ষে সন্ধ্যায় এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ। পুষ্পার্ঘ অর্পণের পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তুলনাহীন অবদান এবং জীবন ও কর্মের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার তারিক আহসান তার বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে সেদিন শুধু ব্যক্তি মুজিবকেই হত্যা করেনি, তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাংলাদেশে থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। হাইকমিশনার মন্তব্য করেন, পঁচাত্তরের এই হত্যাকাণ্ড যেন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির একটি প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশ উল্টোপথে চলে প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারায় ফিরে যায়। অবশ্য, পরবর্তিতে হত্যাকারীদের একটি সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে শাস্তি বিধান করে বাংলাদেশ বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সভ্য দেশ হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাইকমিশনার আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে শুধু আইন ও সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার আলোকিত জগতেই প্রবেশ করেনি, কঠোর প্রচেষ্ঠার মধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, সাহসিকতা, মানবিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের মত গুনাবলী নিজ চরিত্রে স্থান দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নে দেখা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

আলোচনা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মুনাজাত  অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করেন হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের ছেলে-মেয়েরা। সবশেষে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মাঝে বাংলাদেশী খাবার পরিবেশন করা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০