ঢাকা সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫
২৫ °সে

নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের সেমিনার। ছবিঃ ইত্তেফাক।

'বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের নারী সমাজ অসামান্য অবদান রাখছে। সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার রূপান্তরে নারীর ক্ষমতায়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।'

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের সেমিনারের অন্যতম বক্তা হিসাবে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল এ কথা বলেন।

কানাডা ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আয়োজনে 'ইন্টারন্যাশনাল জেন্ডার চ্যাম্পিয়ন্স ডেন হ্যাগ হাব' উদ্বোধন উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

'জেন্ডার চ্যাম্পিয়ন' এমন একটি উদ্যোগ যেখানে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ব্যক্তি কর্তৃক সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। কর্মক্ষেত্রের সকল স্তরে লিঙ্গ সমতা বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

নারীর ক্ষমতায়নকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তন হিসাবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত বেলাল উক্ত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রেক্ষাপট বর্ণনাপূর্বক তিনি জানান, 'কতিপয় অভিনব উদ্যোগ- বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণ এবং তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের নিয়োগের মাধ্যমে নারীরা তাদের সীমাবদ্ধ গণ্ডি অতিক্রম করে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। সরকারের নীতি সহায়তার বদৌলতে বাংলাদেশের লাখো নারী তাদের শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেছে। যা অন্য দেশে তাদের সহকর্মীরা/স্বদেশীরা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে।'

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৮' এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কিভাবে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালী, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাক রিপাবলিক, চেক রিপাবলিক, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশের ন্যায় উন্নত দেশকে অতিক্রম করে ৪৮তম স্থান অর্জন করেছে সে সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে তিনি অবহিত করেন।

তিনি আরো জানান, উক্ত রিপোর্টে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৫ম এবং এক্ষেত্রেও কেবলমাত্র আইসল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নরওয়ে এবং রুয়ান্ডা বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্মজীবী নারীদের অবদান সম্পর্কিত বর্ণনায় রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সকলকে জানান যে, বিগত ৯ বছরে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের মজুরী প্রায় ২৬২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও উক্ত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের মূল্য প্রায় ৬.৫৩ শতাংশ এবং ইউরোপের বাজারে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অতঃপর তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের ব্র্যান্ড কোম্পানীসমূহ এবং সকল ভোক্তাদেরকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের উপর একটি 'অপশনাল বারকোড' সংযুক্তকরণের প্রস্তাব করেন। যা তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের প্রতি তাদের একধরণের স্বেচ্ছামূলক সহায়তা হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে। তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ব্র্যান্ড কোম্পানীসমূহকে উক্ত পদক্ষেপকে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি চিলি ইবোয়ি ওসুজি সেমিনারের সূচনা করেন এবং ফাতো বেনসৌডা, প্রসিকিউটর আইসিসি, মিস ক্যাটলিন ক্রাফট, নির্বাহী পরিচালক, 'উইমেন অ্যাট দ্য টেবিল' এবং 'আইজিসি' -এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জনাব হ্যান্স ডি বোর, চেয়ারম্যান, কনফেডারেশন অব নেদারল্যান্ডস ইন্ডাস্ট্রি এন্ড এমপ্লয়ারস (ভিএনও-এনসিডব্লিউ) মূল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হেইনজ ওয়াকার নেদেরক্রুন। আইসিসির রেজিস্ট্রার পিটার লুইস সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত কানাডীয় রাষ্ট্রদূত সাবিনে নোলকে।

আরও পড়ুনঃ অপহরণের পর ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার

উক্ত সেমিনারে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, স্থায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দপ্তর/সংস্থার প্রধানগণ যোগদান করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন