ঢাকা বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৫
২২ °সে

স্টকহোমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

স্টকহোমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
স্টকহোম দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত। ছবিঃ ইত্তেফাক।

যথাযথ মর্যাদা, গুরুত্ব ও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে উদযাপিত হলো ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। এরপর ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে আগত অতিথিবৃন্দসহ রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম প্রতীকী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

সকল শহীদ ও গতকাল ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও চেতনা তুলে ধরে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগে দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে মহান শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষার জন্য বাঙ্গালিদের জীবন বিসর্জনের অনন্য দৃষ্টান্ত ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দিবসটির স্বীকৃতির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। বক্তাগণ তাদের আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতা অর্জনে অমর একুশের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের দিকসমূহ তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলা ভাষার প্রতি ভাষা শহীদদের গভীর মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে বলেন এ ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য চরম আত্মত্যাগ তাদের মহিমান্বিত করেছে।

রাষ্ট্রদূত ভাষা আন্দোলনে এবং ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘে তার বাংলায় ভাষণের মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাভাষার উৎকর্ষ সাধনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। তারই জোরালো প্রচেষ্ঠার ফলে ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবেসের স্বীকৃতি অর্জন করে। যার ফলে আজ বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠী এ দিবসটি পালন করছে।

রাষ্ট্রদূত এক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাংলাভাষা রক্ষা ও বিকাশে ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তাদের সন্তানদের অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলাভাষা শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুনঃ চকবাজার ট্র্যাজেডির দায় সরকার এড়াতে পারে না: ওবায়দুল কাদের

এরপর প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী, কলা-কুশলী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এবারের অনুষ্ঠানে নিয়মিত শিল্পীদের পাশাপাশি উল্লেখসংখ্যক শিশু অংশগ্রহণ করে। তারা একুশের উপর ছড়া পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন