ঢাকা বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
২২ °সে

লন্ডনে বাংলাদেশি প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

লন্ডনে বাংলাদেশি প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ৫ জনের কারাদণ্ড
বামে রেজাউল করিম, ডানে তমিজ উদ্দিন

বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনে দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশি একটি বড় চক্রের প্রধানসহ ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক মার্টিন গ্রিফিথ বলেন, ‘প্রতারক চক্র ভিসা পেতে হোম অফিসকে প্রতারণার মাধ্যমে বোকা বানাতে সক্ষম হয়েছে এবং এটাই ছিল তাদের উদ্দেশ।’

এই চক্রের প্রধান আবুল কালাম মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে (৪২) সাড়ে ১০ বছর সাজা প্রদান করেছে আদালত। তিনি পূর্ব লন্ডনে বেকটন এলাকার আলবার্ট বেসিন ওয়ে বসবাস করতেন এবং বাংলাদেশে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা এবং বাংলাদেশে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাজাপুর-কাঠালিয়া থেকে সংসদ সদস্য হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- এনামুল করিম (৩৪), পাঁচ বছর দশ মাস সাজা প্রাপ্ত কাজী বরকত উল্লাহ (৩৯), আড়াই বছর দণ্ড প্রাপ্ত মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন (ব্যারিস্টার) (৪৭) এবং শ্রীলংকান নাগরিক জলপা ত্রিভেদিকে (৪১) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার সাজা ঘোষণাকালে শুধু তমিজ উদ্দিন ও জলপা ত্রিভেদি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তারা জেলে রয়েছেন। চক্রের অপর অভিযুক্ত সদস্যরা যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। পলাতক সকলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালতের এবারের রায়ের আগে লন্ডন পুলিশ একেএম রেজাউল করিম ও তার সহযোগী বরকত উল্লাহকে ২০১৩ ও ২০১৭ সালে এমন প্রতারণার লাগাতার অভিযোগে দু'দফায় গ্রেফতার করে। পরে তারা জামিনে মুক্ত পেলেও রেজাউলের পায়ে একটি ডিজিটাল বেরি পরিয়ে দেয় বলে পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। এ অবস্থার মধ্যেই যুক্তরাজ্য বিএনপির কয়েকজন নেতাকে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে হাত করে এই কমিটিতে একটি পদ ভাগিয়ে নেয় বলে বিএনপির একাধিক নেতা ইত্তেফাককে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা বলেন, যারা অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির পদ বিক্রির সাথে জড়িত তারা সকলেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ।

উল্লেখ, রেজাউল করিম আদালতের বিচারে কী রায়ে হবে তা আঁচ করতে পেরেই চলতি বছরের জুলাই মাসের দিকে লন্ডন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, রেজাউল করিম আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ভাগাতে বর্তমানে ঢাকায় লবিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

শুক্রবার আদালতে মামলার রায়ে ঘোষণাকালে তার পক্ষের আইনজীবী নাইজেল স্যাংস্টার কিউসি আদালতকে জানিয়েছেন, ‘রেজাউল করিম বাংলাদেশে না অন্য কোথায় আছে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নাই।'

লন্ডনের জাতীয় এবং আঞ্চলিক মূলধারার ইংলিশ সংবাদ পত্রের খবরে বলা হয়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ প্রতারক চক্রটি দফায় দফায় অপরাধ সংঘটিত করে। এই চক্রটি ‘টিয়ার ওয়ান, ক্যাটাগরির ভিসা প্রসেস করতে হোম অফিসের সাথে তারা এই প্রতারণার আশ্রয়ে নেয়। এজন্য রেজাউল করিম ও তার সহযোগী কাজী বরকত উল্লাহ ৭৯টি ভুয়া কোম্পানি খোলেন।

অন্যদিকে মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন পূর্ব লন্ডনে ব্যারিস্টার হিসাবে পরিচিত। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক। এই পদ থেকে ঢাকা কলেজের এক সময়ের ছাত্রদল নেতা সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দার ইস্তফা দিলে তমিজকে নিয়োগ করা হয়। এ সময়ে এই পদের বিপরীতে টাকা-পয়সা লেনদেনের বিস্তর অভিযোগ উঠে। তমিজ নেত্রকোনার পূর্ব ধলার ধোবাউড়া এলাকার আদি বাসিন্দা। তিনি লন্ডনে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায় বাস করেন।

সরকারি কৌঁসুলি জুলিয়ান ক্রিস্টোফার আদালতে বলেন, ‘এই প্রতারক চক্র প্রতারণাকে শিল্পের মাত্রায় দাঁড় করিয়েছে।’ মূলতঃ তারা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।’

ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্রিমিনাল এন্ড ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন দফতরের ডেপুটি ডাইরেক্টর মি. লীন সারী বলেন, ‘এইচএমআরসি বিভাগের সাথে আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেছি। মূলত আমার কর্মকর্তারা একটি গুরুতর অপরাধ সংঘটনকারী সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে (serious organised crime group) পাকড়াও করতে এক জটিল অনুসন্ধানী তদন্ত পরিচালনা করেছেন। এই চক্রটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিলো। আমরা তাদেরকে দমন করতে সক্ষম হয়েছি।’

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন