ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫
৩২ °সে

কম দামে ভালো বই চান পাঠক

কম দামে ভালো বই চান পাঠক
নতুন বই

বইয়ের দাম নিয়ে বিরক্ত পাঠক। ছোট ছোট বই কিন্তু দাম দুইশ টাকার নিচে নয়। অনেক প্রিয় লেখকের বই কিনতে না পেরে মন খারাপ করছেন পাঠকরা। ২০০-২৫০ পাতার বইয়ের দামও কমপক্ষে ৩০০ টাকা। মেলার প্যাভিলিয়ন ও স্টলে ঘুরে বেড়ানো পাঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তারা একটু কম দামে ভালো বই কিনতে চাইছেন। তবে বেশিরভাগ পাঠকই জানালেন দাম একটু বেশি। অন্যদিকে প্রকাশকরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় এর চেয়ে বইয়ের দাম কম রাখা তাদের জন্য কষ্টকর।

যদিও বইমেলায় ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি হয়। আর বিকাশ এর মাধ্যমে বই কিনলে আরো অতিরিক্ত সাত শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন লেখকরা। অর্থাত্ ১০০ টাকায় ৩২ টাকা কমিশন পাচ্ছেন ক্রেতারা। এরপরেও কোন কোন পাঠক বলছেন, বাংলা একাডেমির উচিত হবে বইয়ের পাতার হিসাব করে বইয়ের দাম বেঁধে দেওয়া। তা নাহলে প্রকাশকরা জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের দাম রাখেন খুব বেশি। যা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বলছেন, কোন স্টল বাড়তি দাম নিলে পাঠকরাই সে প্রকাশনীকে এড়িয়ে চলবে। ফলে তারা আলাদা করে দাম বেঁধে দেওয়ার পক্ষে নন। তবে প্রকাশকরা বলছেন, বইয়ের দাম যথাসাধ্য কম রাখার চেষ্টা করেন তারা। কেননা বেশি দাম রাখলে বই ঘরে পরে থাকবে। এতে পুরোটাই লস। তাই যে কোন উপায়ে বই আটকে না রেখে বিক্রি করার আগ্রহ থেকেই যথাসাধ্য দাম কম রাখা হয়।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বললেন, আড়াইশ পাতার একটি বইয়ের দাম ৩০০ টাকা রাখা হলে এর ২৫ শতাংশ কমিশন বাবদ যায় ৭৫ টাকা। লেখক কমিশন আরো ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তাহলে এ বইয়ের দাম এসে দাঁড়ায় ১৮০ টাকায়। বই বাঁধাইয়ে যায় আরো ২০ টাকা। এরপর কাগজ, কালি, কভার, প্রচ্ছদ শিল্পী, ট্রান্সপোর্ট সব খরচই যায় এই টাকা থেকে। এর মধ্য থেকে প্রকাশক কত টাকা লাভ করতে পারে আপনারাই বুঝে দেখুন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত মানুষ এসেছে মেলায়। কিনেছেন বই। খুশি প্রকাশকরা। আর সকালে জমে উঠেছিল শিশুপ্রহর। আজ শনিবারও শিশুপ্রহর। তাই মেলা শুরু হবে সকাল থেকেই।

মোড়ক উন্মোচন:শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক ইকবাল খোরশেদ রচিত ‘বাংলার লোক ঐতিহ্য পরিচয়’ গ্রন্থের প্রকাশনা উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর কবি মুহাম্মদ সামাদ। এদিকে মেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে লেখক আলী ইদরীস-এর ‘আমি একাত্তরের কথা বলছি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কবি বিমল গুহ। বক্তব্য রাখেন কবি-সাংবাদিক শুচি সৈয়দ, গল্পকার মনি হায়দার প্রমুখ।

লেখক বলছি:গতকাল মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে অবস্থিত লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হয়েছিলেন পাঁচজন লেখক। মানুষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘ঝুলনপূর্ণিমা থেকে নেমে এলো’ নিয়ে কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, জলতরঙ্গ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘পুরান ঢাকার জেল­া লালবাগ কেল­া’ নিয়ে ছড়াকার আসলাম সানী, বৈভব থেকে প্রকাশিত ‘আজিজুল একটি গোপন নামতা’ বইটি নিয়ে কবি-গল্পকার ফারুক আহমেদ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘বাবুদের বাজিমাত’ নিয়ে শিশুসাহিত্যিক পলাশ মাহবুব এবং বিদ্যাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘গল্প সমারোহ’ নিয়ে কথা বলেন কথাসাহিত্যিক জুলফিয়া ইসলাম।

কম দামে ভালো বই চান পাঠক

নতুন বই:শুক্রবার মেলায় নতুন বই এসেছে ২৭২টি। এর মধ্যে রয়েছে — নির্মলেন্দু গুণের ‘কবিতাকুঞ্জ’ (বিভাস), আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন’ (আগামী), মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘টুটনের ঘুম’ (দ্য পপ-অপ ফ্যাক্টরি), মুস্তফা জামান আব্বাসীর ‘ঢাকা না কলকাতা’ (প্রিয় বাংলা প্রকাশন), মুস্তাফিজ শফির ‘ব্যক্তিগত রোদ ও অন্যান্য’ (কথাপ্রকাশ), আহসান হাবীবের ‘উন্মাদীয় রম্য’ (অর্জন প্রকাশ), বুলবুল সরওয়ারের ‘মমির দেশ মিশর’ (ঐতিহ্য), স্বকৃত নোমানের ‘বাঙালি মনীষীদের ছেলেবেলা’ (অনিন্দ্য প্রকাশ), সুমন্ত আসলামের ‘রাত একটা একুশ : পাঁচ গোয়েন্দা’ (কথা প্রকাশ), আনিসুল হকের ‘বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা’ (পার্ল পাবলিকেশন্স), ধ্রুব এষের ‘আমার বাঘ মামাই’ (ময়ূরপঙ্খি), মারুফুল ইসলামের ‘দহগ্রাম’ (অন্যপ্রকাশ), সঞ্জীব দ্রংয়ের ‘ঈশ্বর সাঁওতালদের ভুলে গেছে’ (সূচীপত্র), আবুল হায়াতের ‘বিষফল’ (প্রিয় বাংলা প্রকাশন), হাসান হাফিজের ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ (অক্ষর প্রকাশনী) ও আলম তালুকদারের ‘দশ ফালি রোদ’ (আদিগ্রন্থ) ।

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে স্মরণ:গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

আরও পড়ুন: কবি আল মাহমুদ আর নেই

পরে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি ইকবাল আজিজ ও হারিসুল হক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল এবং রূপা চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল হাসান আব্দুল্লাহর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠন’ এবং আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’এর নৃত্যশিল্পীবৃন্দের পরিবেশনা।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন