যে প্রযুক্তিগুলো ভ্রমণের সঙ্গী

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ০৪:৫৮

বিভিন্ন কাজের জন্য বা ঘুরতে আমরা প্রায়ই অনেক দূরে যাই। কখনো কখনো ভ্রমণের এই সময়টা বড়ও হয়ে থাকে। অর্থাত্ সপ্তাহ খানেক বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে এই ভ্রমণের পরিধি। ভ্রমণে বের হলে আমরা সবাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েই বের হই। এখানে পরিধেয় পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী, ভ্রমণের খরচ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সহায়ক জিনিসপত্র আমরা সঙ্গে নিয়ে থাকি। যখন আমরা গন্তব্যে পৌঁছে যাই তখন অনুভব করি যে, ল্যাপটপটি যদি সঙ্গে নিয়ে আসতাম, মোবাইল চার্জারটি আনার প্রয়োজন ছিল, ক্যামেরাটি আনলে হয়তে ছবি তুলতে পারতাম। এমন অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে জাগে। যাইহোক, যে প্রযুক্তিগুলো ভ্রমণে আমাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করে সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে এ লেখায়।

স্মার্টফোন

মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের একটি দিন বর্তমানে কল্পনাও করা যায় না।

মোবাইল ছাড়া আমাদের একটি দিনও চলে না। ঘুরতে বের হলেও আপনার এই সার্বক্ষণিক সঙ্গীকে বাদ দেওয়ার কোনো উপায় নেই। বর্তমান সময়ে এসে আপনার ঘুরে বেড়ানোর জন্যও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি গ্যাজেটে পরিণত হতে পারে। তবে তার জন্য সেটিকে হতে হবে একটি স্মার্টফোন। স্মার্টফোনের নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন এর কার্যকারিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। ধুলা ও পানিরোধী একটি স্মার্টফোন যেকোনো স্থানে ভ্রমণের সময়েই আপনার জন্য অনেক কাজের হবে। দেশের বাইরেও যদি ঘুরতে যান, তাহলে রোমিং চালু করা থাকলেই ফোনটি দিয়ে দেশেও যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে স্মার্টফোনের মূল উপযোগিতা কিন্তু হবে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশনের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

ল্যাপটপ

তথ্যের সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের জন্য বেড়ানোর সময় ল্যাপটপ হতে পারে আপনার সঙ্গী। পথে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে ম্যাকবুক এয়ার বা এই ধরনের হালকা ধরনের আল্ট্রাবুক হতে পারে বেশি উপযোগী। আকারে ছোট এবং ওজনে কম ল্যাপটপই বেড়ানোর সময় পছন্দের তালিকায় থাকা দরকার। আর অবশ্যই ল্যাপটপের সুরক্ষার জন্য থাকতে হবে ভালো মানের কোনো ক্যারিকেস বা ল্যাপটপ ব্যাগ। এক্ষেত্রে পানিরোধী ল্যাপটপ ব্যাগ বেছে নেওয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ল্যাপটপে ন্যূনতম ৫-৬ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত হয়ে বের হওয়া উচিত। ল্যাপটপে স্টোরেজও ফাঁকা রাখা উচিত ১০০ গিগাবাইটের বেশি। তাহলে ভ্রমণের সময় একের পর এক ছবি তুলে বা ভিডিও করে তা সংরক্ষণ করতে আর কোনো সমস্যা হবে না।

ক্যামেরা

বেড়াতে যাচ্ছেন আর ক্যামেরা সাথে নেবেন না, তাই কি হয়! আজকের দিনে ক্যামেরা ছাড়া কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। ডিএসএলআর না থাকুক, অন্তত একটি ডিজিটাল ক্যামেরা সাথে রাখতেই হবে বেড়াতে গেলে। হার্ডকোর ফটোগ্রাফিতে আপনার প্যাশন থাকলে ভালো একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা থাকাই উচিত আপনার। আর সেরকম না হলে ভালো মানের একটি ডিজিটাল ক্যামেরা আপনার চাহিদা পূরণ করবে। ক্যামেরা যেটাই হোক, একটু বেশি স্টোরেজের একটি মেমোরি কার্ড আপনার ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

মেমোরি কার্ড রিডার

বেড়াতে গেলে খুব সাধারণ একটি বিষয় হলো প্রচুর ছবি তোলা এবং ভিডিও করা। যে কারণে সাথের ক্যামেরাটির মেমোরি কার্ডটি প্রায়ই ভরে যেতে পারে। ফলে নিয়মিত মেমোরি কার্ডটি খালি করে নেওয়ার প্রয়োজন হবে। এ জন্য সাথে একটি মেমোরি কার্ড রিডার থাকলে তা কাজে দেবে। বেশিরভাগ ল্যাপটপেই মেমোরি কার্ড রিডার থাকলেও সেটি সব ধরনের মেমোরি কার্ড রিড করতে পারে না। এ জন্যই একটি মেমোরি কার্ড রিডার সব ধরনের কার্ড থেকেই তথ্যকে স্থানান্তরিত করতে সহায়তা করবে।

লাগেজ ট্র্যাকার

নিজের লাগেজকে নিরাপদে রাখার জন্য এখন প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারেন আপনি। ট্র্যাকডট নামের একটি ডিভাইস এই বিষয়ে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। আকারে ছোট্ট এই গ্যাজেটটি আপনার লাগেজের সাথে রাখলেই এটি কখন কোথায় থাকবে, তার খবর আপনি পেয়ে যাবেন। ওয়াই-ফাই থাকলে উড়োজাহাজেও এটি আপনার নজরদারির মধ্যেই থাকবে। এসএমএস এবং ইমেইল নোটিফিকেশনের সুবিধাও রয়েছে এতে। জিপিএস ট্র্যাকারসহ এটি বলতে গেলে আপনার লাগেজ হারানোর ভয় পুরোপুরি দূর করে দিতে পারে।

ভাইবার

ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং এবং ভয়েজ কলের জনপ্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন ভাইবার। প্রায় সব ধরনের স্মার্টফোনেই এটি ব্যবহার করা যায়। ভাইবার ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে বিনামূল্যেই কথা বলতে পারবেন ভাইবার ব্যবহার করে। ফলে আপনি যেখানেই থাকুন, ভাইবার সচল থাকলে আপনি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন সবার সাথেই।

স্কাইপ

ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে সড়াইপও জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে। বিনামূল্যের এই অ্যাপ্লিকেশনটি দিয়ে সকল সড়াইপ ব্যবহারকারীর সাথে বিনামূল্যে ভিডিও কলিং করার সুযোগ দেবে। তাছাড়া এর মাধ্যমেও ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিংও সম্ভব। ফলে প্রিয়জনদের সাথে রিয়েলটাইমে বেড়ানোর স্থানকে তুলে ধরতে পারবেন সড়াইপ ব্যবহার করে।

হেয়ার

ভ্রমণকালীন গাইড হিসেবে কাজ করবে হেয়ার অ্যাপ্লিকেশনটি। এতে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের হোটেল, এয়ারপোর্ট, খাবারের দোকানের সন্ধান মিলবে। ফলে আপনার নিকটতম অবস্থান একে জানালেই এটি আপনার প্রয়োজনীয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা অন্যান্য স্থানের খবর বলে দেবে। সব স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যায় হেয়ার।

গুগল ট্রান্সলেটর

এই অ্যাপ্লিকেশনটি মূলত আপনাকে সাহায্য করবে দেশের বাইরে বেড়াতে গেলে। নতুন দেশের ভাষা আপনার জানা নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে গুগল ট্রান্সলেটর ওই দেশের ভাষাকে আপনার নিজের ভাষায় অনুবাদ করে জানিয়ে দেবে। এখনও পর্যন্ত গুগল ট্রান্সলেটরে বাংলা অনুবাদ খুব একটা মানসম্মত না হলেও ইংরেজির অনুবাদ মানসম্মত।

সোলার চার্জার

এমনিতেই সাধারণভাবে বিভিন্ন গ্যাজেটের ব্যাটারি ব্যাকআপ একটি ঝামেলার বিষয়। হয়ত বেড়াতে গিয়ে ছবি তুলতে তুলতে স্মার্টফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। ফলে আপনার ছবিটি আপলোড করতে পারছেন না ফেসবুকে। কিংবা ক্যামেরার ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে আর ছবি তোলার উপায় নেই। তাই ভালো একটি সোলার চার্জার ভ্রমণের সময় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি গ্যাজেট। ভালো মানের সোলার চার্জার ল্যাপটপ, স্মার্টফোন থেকে সব ধরনের গ্যাজেটই চার্জ করতে পারে। তাই এমন একটি চার্জার আপনিও নিয়ে নিতে পারে ভ্রমণের আগে।

এমপিথ্রি/এমপিফোর প্লেয়ার

গান শোনার জন্য বা ভিডিও দেখার জন্য অনেকেই নিজের স্মার্টফোনকেই যথেষ্ট মনে করেন। তবে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য বিশেষায়িত ডিভাইস ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, তাদের গান শোনা বা ভিডিও দেখার জন্য সহায় হতে পারে এমপিথ্রি বা এমপিফোর প্লেয়ার। এ ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো অ্যাপলের আইপডের বিভিন্ন সংস্করণ। তবে দামের দিক থেকে এগুলো আপনার আওতার বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের বেশকিছু এমপিথ্রি বা এমপিফোর প্লেয়ার বেছে নিতে পারেন। গানের তালে তালে ভ্রমণ অনেকটাই উপভোগ্য হয়ে উঠবে তাহলে।

ই-বুক রিডার

ভ্রমণের সময় বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। তবে একগাদা বই নিয়ে ব্যাগ ভারি করাটা কাজের কথা নয়। আধুনিক এই যুগে অবশ্য তার দরকারও নেই। সাথে রাখুন একটি ই-বুক রিডার। তাইলে দুয়েকটি কেন, আপনার লাইব্রেরির সব বই-ই পুরে ফেলতে পারবেন ট্যাবলেট পিসি আকারের ছোট্ট একটি ডিভাইসে। অ্যামাজনের কিন্ডল, সনির রিডার, বার্নস অ্যান্ড নোবেলসের নুক, আসুসের ট্রিপল ই-রিডার—এগুলোর যেকোনো একটিই আপনার লাইব্রেরিকে বহন করে নেওয়ার সুবিধা দেবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি