রাজধানী | The Daily Ittefaq

পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি নাগরিক সমাজের

পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি নাগরিক সমাজের
ইত্তেফাক রিপোর্ট২২ নভেম্বর, ২০১৪ ইং ১৮:১৪ মিঃ
পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি নাগরিক সমাজের
 
 
 
অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী সংক্রান্ত ৩ টি বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন— পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাজ আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বক্তারা এ দাবি জানান। গত ১৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার ও জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচনের দাবিতে নাগরিক সমাজ এ প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হবে, সেটাই সাংবিধানিক পদ্ধতি। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সরকারের থাকবেন, সেটাই সংবিধিবদ্ধ নিয়ম। কিন্তু সরকার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পরিচালনা করতে চান, যা সংবিধান-সম্মত নয়।’
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘একতরফাভাবে সংসদে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল উত্থাপন করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে লংঘন করেছে। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লে­খ আছে— সেখানকার বিষয়ে কোনো আইন প্রণয়ন করতে গেলে অবশ্যই আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। জুম্ম জনগণ দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে এই অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু সেখানকার জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে সরকার দলীয় লোকদের পুনর্বাসনের জন্য বিল সংসদে উত্থাপন করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপ গণবিরোধী।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য খুশী কবীর বলেন, ‘সরকার পার্বত্য অঞ্চলের সব কিছুকেই নিজেদের কব্জায় নিয়ে যেতে চায়।’
‘সরকার সেখানে সামরিকীকরণ অব্যাহত রেখেছে’ অভিযোগ করে খুশী কবীর বলেন, ‘আদিবাসীদের স্বার্থ লংঘন করার জন্যই এই জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে।’
অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান নেই। পাহাড়ের জনগণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল জেলা পরিষদ অর্জন করেছে। কিন্তু ১৯৯২ থেকে সেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচন হচ্ছে না। অবিলম্বে চুক্তি মোতাবেক ৩৩টি বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য খুশী কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, নারী নেত্রী চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ।
মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের দাবিনামা উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট নীলুফার বানু। মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব মীর।
 
                        
এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১০
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৩০সূর্যাস্ত - ০৬:২১