রাজধানী | The Daily Ittefaq

বৌদ্ধ ধর্মগুরুর উদ্যোগে ইফতার আয়োজন

বৌদ্ধ ধর্মগুরুর উদ্যোগে ইফতার আয়োজন
ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ
আসিফুর রহমান সাগর১২ জুন, ২০১৬ ইং ০৯:০৩ মিঃ
বৌদ্ধ ধর্মগুরুর উদ্যোগে ইফতার আয়োজন
হত্যা, খুনের এই অশান্ত সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হতে পারে এটি। বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার গত ছয় বছর ধরে রমজান মাসে দরিদ্র মুসলিমদের মাঝে ইফতার বিতরণ করছে। যেখানে প্রতিদিন  পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ছে মানুষ হত্যার খবর। সাম্প্রতিক সময়ে পাবনায় আশ্রমের সেবক খুন, বনপাড়ায় সুনীল গোমেজ হত্যা, ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী, গোপালগঞ্জের সাধু পরমানন্দ রায়, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে হত্যা ঘটনায় পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্রকেই তুলে ধরে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর যে নোংরা রাজনীতি চলছে তার বিপরীতে এই ধরনের উদ্যোগ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সহাবস্থানে অনুপ্রাণিত করে।
 
বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার থেকে এক প্রৌঢ় নারী বেরিয়ে এলেন খাবারের প্যাকেট হাতে। কোনো পূজা চলছে? উত্তরে তিনি বললেন, এটা ইফতার। প্রতিদিন পাই। খটকা লাগলো? ইফতার কেন বৌদ্ধ মহাবিহার থেকে বিতরণ করা হবে! দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই বিস্ময়কর এক ঘটনার কথা জানলাম। এই ধর্মরাজিক মহাবিহার গত ছয় বছর ধরে চলছে রমজান মাসে ইফতার বিতরণ।
 
এই মহাবিহারের গুরু শুদ্ধানন্দ মহাথেরো বললেন, আমরা বৌদ্ধরা বলি, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।’ আমার ধর্ম মানুষের সেবা করা। এখন ভাই ভাইয়ের রক্ত নিচ্ছে। খুন করছে। মানুষ মারছে। মানুষ হত্যা কোনো ধর্মের লক্ষ্য নয়। এই হানাহানি ভালোবাসা দিয়ে থামাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ, সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ। আমরা এখনকার এই অস্থির অবস্থা দূর করে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে চাই। আর সে কারণেই মুসলিম ভাইয়ের জন্য আমাদের এই ‘বন্ধুত্বের উদ্যোগ’।
 
ইফতার দেওয়ার চিন্তা কেন এলো? উত্তরে শুদ্ধানন্দ মহাথেরো বলেন, আমাকে এলাকার মানুষ ‘বড়দা’ বলে। এলাকায় ঘুরতে ফিরতে দেখি ইফতারে অনেকেই ইফতার করতে পারেন না। তখন মহারাজিকের সকল ভিক্ষুর সঙ্গে আলোচনা করে ইফতার বিতরণের এই সিদ্ধান্ত নেই।
 
এই মহাবিহারের আবাসিক গুরু নিভ্যুতি থেরো জানালেন, বিকাল পাঁচটা থেকে দেয়া শুরু হয় ইফতার। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ জনকে ইফতার বিতরণ করা হয়। রোজার শেষ দিকে এসে প্রতিদিন সাতশ, আটশ রোজাদার ইফতার গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।
 
ইফতারে দেয়া হয় পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, জিলাপি ও মুড়ি। প্যাকেটে করে গুরু শুদ্ধানন্দ মহাথেরো নিজে দাঁড়িয়ে সব ইফতার বিতরণ করেন। বিকাল চারটা থেকেই আনাগোনা শুরু হয়ে যায় বিহারের সামনে। সবাইকে টিকেট দিয়ে ছেলে-মেয়ে আলাদা লাইনে সুশৃঙ্খলভাবে মহাবিহারে প্রবেশ করে গ্রহণ করেন ইফতার।
 
মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষদের এই অনন্য উদ্যোগের যে প্রেরণা তা যদি সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া যেত তাহলে এই হানাহানি অবিশ্বাস দূর হয়ে যেত বললেন শুদ্ধানন্দ মহাথেরো।
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬