রাজধানী | The Daily Ittefaq

ঘরেই শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে সাদিকের অনলাইন স্কুল

ঘরেই শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে সাদিকের অনলাইন স্কুল
বারেক কায়সার১২ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং ০১:২৩ মিঃ
ঘরেই শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে সাদিকের অনলাইন স্কুল

টেন মিনিট স্কুল। দেশের সবচাইতে বড় অনলাইন পাঠশালা। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একটি উদ্যোগ। দেশের সর্বত্র সমন্বিত শিক্ষার স্বপ্নের বীজ বুননে শুরু হয় এ পথচলা। আর এর উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক।

 
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময় উপযুক্ত নির্দেশনা পাননি তিনি। তাই সফলতা পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে আয়মান সাদিক পড়লেন মহা যন্ত্রণায়! মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান ক্লাসে বসে তার মাথা ঘুরপাক খেতে লাগল।
 
সমস্যা কাটাতে ইউটিউবে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের ওপর কিছু টিউটোরিয়াল খুঁজে পেলেন। এরপর সতেরোটা ভিডিও দেখে আবিষ্কার করলেন, হিসাব বিজ্ঞানের মোটা বইটার ১৭টা অধ্যায় পড়া শেষ তার! ভাবলেন, সহজে শেখার এই উপায়টা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে কেমন হয়? এই ভাবনা থেকেই বছর দুয়েক আগে যাত্রা শুরু হয়েছিল টেন মিনিট স্কুল ডটকম (10minuteschool.com) নামের ওয়েবসাইট।
 
এই সাইটে ক্লিক করলেই পছন্দের বিষয়ের ওপর নির্ধারিত কিছু নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন চলে আসবে। ১০ মিনিটের মধ্যে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সময় শেষ হলে অথবা সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়ে গেলে দেওয়া হবে ফলাফল। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কার অবস্থান কত, তাও বলে দেবে ওয়েবসাইটটি। ঘরে বসেই শিক্ষার আলো পেয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
 
বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি, নিজেকে যাচাই কিংবা তথ্য অনুসন্ধান, সব হবে এক ওয়েবসাইটে। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে আইবিএ, মেডিক্যাল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ‘কুইজ’ পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া যাবে এখানে। বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি আইইএলটিএস, টোফেল, স্যাট, জিআরই, জিম্যাটের জন্যও আছে ভিন্ন ভিন্ন কুইজ।
 
সাইটের বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে অবদান রেখে চলেছে একঝাঁক তরুণ-তরুণীর নিরলস শ্রম ও প্রচেষ্টা। স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন প্ল্যাটফর্মটির উন্নয়নে এবং সমৃদ্ধকরণে। আয়মান সাদিক বলেন, আমি নিজে অনেক কিছুই শিখেছি খান একাডেমির ভিডিও দেখে। সেখান থেকেই ধারণা পেলাম, আমাদের শিক্ষার বিষয়গুলোও সহজভাবে উপস্থাপন করা যায় কীনা। আমাদের ওয়েবসাইটে টিউটরিয়াল ও কুইজের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাইটের নাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমরা কথায় কথায় বলি, দশ মিনিটে করে দিচ্ছি। এই স্কুলের বক্তব্যও সেটাই। কোনো বিষয়ে কিছু শিখতে চান? নিজের দক্ষতা যাচাই করতে চান? আমাদের ওয়েবসাইটে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিন।
 
যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক এই অনলাইন স্কুলের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম দিতে পারেন। সাদিক বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের যেন কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়, ঘরে বসেই যেন তারা বিনা মূল্যে শিখতে পারে, পরীক্ষার প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে, এটাই আমাদের চাওয়া।
 
তরুণদের উদ্দেশে আয়মান বলেন, আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবার অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু পা বাড়াতে ভয় পাই। তাদের বলব, একটু সাহস করে পা বাড়িয়ে দেখুন। ‘কিছু করতে হবে’ এজাতীয় কথা না বলে এখনই কাজ শুরু করে দিন।
 
ইউএনডিপি’র সহায়তায় সারাদেশে ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে টেন মিনিট স্কুলের ভিডিও দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার এবং একটি মোবাইল অপারেটরের সহায়তায় সারাদেশের দুই হাজারের বেশি প্রশিক্ষণ ল্যাবে টেন মিনিট স্কুলের কনটেন্ট দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা এবং ৯টায় লাইভ ক্লাস হচ্ছে।
 
টেন মিনিট স্কুলের ফেসবুক পেজ : facebook.com/10minuteschool
 
ইউটিউব ঠিকানা : youtube.com/c/10minuteschool

ইত্তেফাক/এএন

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৫৩
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩২