রাজধানী | The Daily Ittefaq

শিশু ও তার মাকে বাঁচিয়ে ট্রেনে কাটা পড়লেন রেলকর্মী বাদল

শিশু ও তার মাকে বাঁচিয়ে ট্রেনে কাটা পড়লেন রেলকর্মী বাদল
বিশেষ প্রতিনিধি২৮ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং ০৯:৩৫ মিঃ
শিশু ও তার মাকে বাঁচিয়ে ট্রেনে কাটা পড়লেন রেলকর্মী বাদল
 
নিজের জীবন দিয়ে এক মা ও তার শিশুপুত্রের প্রাণ রক্ষা করেছেন একজন রেলকর্মী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে বন্ধ করে দেয়া লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে ঘটে এ ঘটনা। ঘটনার সময় রেলকর্মী বাদল মিয়া (৫৮) লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে রেললাইন মেরামতের কাজ করছিলেন। সিলেট থেকে ঢাকাগামী সুরমা মেইল ট্রেনটি অতিক্রমের সময় রেললাইন দিয়ে এক মহিলা তার ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে হাটছিলেন। এ সময় তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান বাদল মিয়া। নিহত বাদল মিয়া রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মচারী। বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা রেলপথ থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক।
 
নিহত বাদল মিয়ার সহকর্মী সোহেল জানান, দুপুরে বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে রেল লাইন মেরামতের কাজ করছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫/৬ জন কর্মচারী। এসময় বোরকা পরিহিত এক মহিলা তার ৫ বছরের শিশুকে নিয়ে রেল লাইন দিয়ে হাঁটছিলেন। ঠিক ওই মূহুর্তে ডাউন লাইন দিয়ে একটি ট্রেন ঢাকার দিকে আসছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাদল মিয়া তার কাজ ফেলে ছুটে যান। দৌড়ে গিয়ে ওই মহিলাকে ধাক্কা দেন। বাদলের ধাক্কায় মা ও তার সন্তান রেল লাইনের বাইরে পড়ে যায়। কিন্তু শিশুটি কিছু না বুঝে আবারো দৌড়ে লাইনে উঠে পড়ে। শিশুটিকে বাঁচাতে আবারো ছুটে যান মহত্ হূদয় বাদল। শিশুটিকে এ দফায় ধাক্কা দিয়ে বাঁচাতে পারলেও তিনি রেললাইনের পাথরের ওপর পড়ে যান এবং মূহুর্তের মধ্যে কাটা পড়েন ট্রেনে। তবে নিজের জীবন দিয়ে যাদের বাঁচিয়ে গেলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর থেকে ওই মহিলা ও শিশুকে আর দেখা যায়নি।
 
নিহত বাদল মিয়ার ছেলে রেলওয়ে খিলক্ষেত এলাকার গেটম্যান মামুন মিয়া জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাদের বাড়ি। তারা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। কাওলা রেলগেট স্টাফ কোয়ার্টারে তারা থাকেন। তার মা আয়েশা খাতুন একজন গৃহিনী। তার বড় ভাই জজ মিয়া একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। ছোট ভাই সোহাগ (২০) এবং সোহলে (১৬) বেকার। সবার ছোট রিমেল (১০) চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মামুন জানান, বাবা তার জন্য ৭-৮ মাস আগে রেলের গেটম্যান হিসেবে অস্থায়ি চাকরির ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, এর আগেও তার বাবা বেশ কয়েকটি প্রাণ বাঁচিয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে তার বাবা রেলে চাকরি করেন।
 
ঢাকা রেলপথ থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। বাদলের লাশ ময়না তদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে কমলাপুর রেল স্টেশন ও কাওলায় জানাজা শেষে লাশ দাফনের জন্যে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।
 
কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার শীতাংশু চক্রবর্তী জানান, বাদল মিয়া ছিলেন রেলওয়ের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ। খুবই ভাল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। বাদলের পরিবারের সুবিধা-অসুবিধায় রেল কর্তৃপক্ষ সব সময় পাশে থাকবে।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:০৯