রাজধানী | The Daily Ittefaq

৪৫ হাজার নারীকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জুঁই

৪৫ হাজার নারীকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জুঁই
নারী উদ্যোক্তা
ইয়াসমিন পিউ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং ০০:৩৫ মিঃ
৪৫ হাজার নারীকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জুঁই

প্রশিক্ষণ দিয়েই স্বাবলম্বী হয়েছেন জেসমিনা সুরুজ জুঁই। তিনি দেশের একজন সফল হস্তশিল্প প্রশিক্ষক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন নামিদামি এনজিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি একাধিক পুরস্কার। স্বপ্ন দেখেন, কারিগরি শিক্ষাকে সরকার বাধ্যতামূলক করবে এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা দেশের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি হবে।

জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার নারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জুঁই। যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারী বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কাজ করছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসাবে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১২’ ছাড়াও বেশকিছু বেসরকারি পুরস্কার পেয়েছেন সফল এই নারী উদ্যোক্তা।

সরেজমিনে ৫৪/এ, পশ্চিম মাদারটেক, গোড়ান ছাপরা মসজিদ থেকে একটু সামনে গেলেই হাতের ডান দিকে চোখে পড়বে আলরাজি স্কুল। সেই স্কুল ভবনের দোতলায় জুঁইয়ের ‘নকশী কাঁথা’ নামের হস্তশিল্প কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এটি সরকার অনুমোদিত নারীদের আত্মকর্মসংস্থান কেন্দ্র। এখানে শেখানো হয় দেশি-বিদেশি ব্লক, বাটিক, নকশি কাঁথা সেলাইয়ের কাজ, হাজার বুটিক, জাপানি টাইডাই, পাটের ব্যাগ, মোম, মোমের শোপিস তৈরি, রঙের কাজ, এমব্রয়ডারি, কাপড় কাটিং ও বিভিন্ন ফেলনা সামগ্রী দিয়ে খেলনা তৈরির কাজ। পাশাপাশি দেওয়া হয় দেশি-বিদেশি রান্নার প্রশিক্ষণ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারা দিনই সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন নারীরা।

ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে জেসমিনা সুরুজ জুঁই বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী; কিন্তু তারা অদক্ষ। আমার মনে হয় স্কুল-কলেজে কারিগরি ট্রেনিংটা বাধ্যতামূলকভাবে করানো দরকার। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যদি কারিগরি কাজ শেখে, তাহলে লেখাপড়া শেষ না করতে পারলেও কারো কাজের অভাব হবে না। দেশে কিংবা বিদেশে যাওয়ার জন্যেও তৈরি হয়ে যাবে দক্ষ জনশক্তি। বিশেষ করে মফস্বল শহরের অভাবি পিতামাতার সন্তানরা আর বাল্যবিয়ে কিংবা যৌতুকের নির্যাতনের শিকার হবেন না।’   

জুঁই আরো বলেন, ‘এখনো অনেক নারী আছেন, যারা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা স্কুলের বাইরে গল্প করে সময় কাটান। ওই সময়টাকেও যদি তারা কাজে লাগাত, তাহলে দেশটার আরো উন্নতি হতো। এই বিষয়গুলোতে নারীদের সচেতন করা প্রয়োজন। নিজে স্বাবলম্বী হওয়া, নিজের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা খুবই জরুরি। আমরা যারা বেড়িয়ে এসেছি তাদের সমাজে অনেক ফাইট করতে হয়েছে। আমি নারীদের এমন একটা জায়গায় দেখতে চাই, যেখানে নারীরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন নিজেরাই করবে।’

কর্মজীবনে সফল এই নারী নিজের উঠে আসার গল্প শোনালেন। ‘আমার হাতের কাজের আগ্রহটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। শখের বসেই বিসিকে হাতের কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট-খাটো অনেক প্রশিক্ষণ নেই।  পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করে  চাকরি  নেই একটি এনজিওতে। কিন্তু মনের মতো কাজ হয় না। চাকরি বদলাই; তাও কাজে আনন্দ পাই না। তখন মনে হচ্ছিল- না এভাবে নয়; নিজের কিছু করা দরকার। ভাবলাম এমন কিছু করবো, যাতে আমার নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, পাশাপাশি অন্য মেয়েদেরও কর্মসংস্থান হয়। অবশেষে নিজের শেখা প্রশিক্ষণটাকে পুঁজি করে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় সেন্টারটি শুরু করি। পাশাপাশি নিজের প্রশিক্ষণের কাজটিও চালিয়ে যাই। রান্না শিখি হোটেল অবকাশ ও শেরাটনে।’

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি জুঁইকে।  বর্তমানে তিনি নিজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করা ছাড়াও মাস্টার ইনস্ট্রাকটর হিসেবে ব্র্যাক, আহসানিয়া মিশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, কারিতাস, এসএসই, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন সংস্থায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। দেশ টিভির ‘দূরপাঠ’ নামক অনুষ্ঠানেও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এছাড়া বৈশাখী টিভি, চ্যানেল আই ও এটিএন বাংলায় রান্নার অনুষ্ঠানে কাজ করছেন নিজ উদ্যোগে স্বাবলম্বী এই নারী।

ইত্তফোক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৪