রাজধানী | The Daily Ittefaq

রাজধানীর বাজারে মাংস নেই এক সপ্তাহ

রাজধানীর বাজারে মাংস নেই এক সপ্তাহ
আনোয়ার আলদীন১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং ২০:৪৬ মিঃ
রাজধানীর বাজারে মাংস নেই এক সপ্তাহ
গত প্রায় এক সপ্তাহ রাজধানীতে মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে। ফলে ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার সাড়ে চার হাজারের বেশি দোকানে গরু-খাসির মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ নগরবাসীর খাদ্যাভ্যাসে চরম প্রভাব ফেলেছে। ঢাকার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে গরু ও খাসির মাংসের আইটেম বন্ধ রয়েছে। তেহারি ও বিরিয়ানি বিক্রি বন্ধ করেছে রেস্টুরেন্টগুলো। বাসা-বাড়িতে সমস্যায় আছেন অনেকে।
 
মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও গাবতলী পশুর হাট ইজারাদারদের দ্বন্দ্বের কারণে এই ধর্মঘট চললেও সরকারি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপহীন। কয়েকটি সুপার শপে বিশেষ ব্যবস্থায় মাংস বিক্রি হলেও দামের আগুনে তা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। এই মওকায় মুরগি-মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। 
 
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে হুমকী দিয়ে বলেছেন, তাদের চার দফা দাবি মানা না হলে এরপর ধর্মঘট হবে সারা দেশে। আর সব দাবি পুরোপুরি মানলে মাংসের কেজি ৩০০ টাকার নিচে নেমে আসবে।
 
মাংস ব্যবসায়ীদের চার দফা দাবি হলো- অতিরিক্ত খাজনা আদায়েরর জন্য গাবতলী হাটে ইজারাদারদের ইজারা বাতিল করা, রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ, হুন্ডির মাধ্যমে গরু ব্যবসার নামে ভারতে গরু পাচার বন্ধ করা ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ‘কালা মইজা’কে বিচারের আওতায় আনা, হাজারিবাগের ট্যানারিগুলো দ্রুত অপসারণ ও চামড়ার পড়তি দাম বাড়ানো, উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘মহা দুর্নীতিবাজ’ প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাদের অপসারণ ও গ্রেফতার এবং ট্যানারি শিল্প মালিকদের দুই ভাগে ভাগ করে সফল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা এবং ব্যর্থ মালিকদের কারখানা বন্ধ করা। তাদের অভিযোগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাউল ইসলাম ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইজারাদারেরা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন।
 
গরু ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ইজারাদারদের নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের জন্য ৫শর উপরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কাছে। কিন্তু করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সম্পত্তি বিভাগের প্রধান কেউ তা আমলে নেয়নি। বরং তারা সময়ক্ষেপণ করে ইজারাদারদের সাথে মিলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মাংস ব্যবসায়ীদের চার দফা দাবির মধ্যে রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ করা অন্যতম। 
 
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে ঢাকায় আসতে ৫০ হাজার টাকা লেগে যায়। পুরো ২০ হাজার টাকাই পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। এ কারণে বাজারে গরুর মাংসের দাম বেশি পড়ে। এখন যে দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে তা অন্যায্য বলেও দাবি করছেন তারা। ক্রেতাদের ঠকিয়ে এত দামে মাংস বিক্রি করতে তাদেরও মন চায় না। তাই বাধ্য হয়ে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
 
জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকার কাছাকাছি ও খাসির মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এক বছর আগেও রাজধানীতে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকার নীচে। বছর না ঘুরতেই কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। এ ছাড়া খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১৫০-২০০ বেড়েছে।
 
ঢাকা মহানগর মাংস বিক্রেতা সমিতির অভিযোগ, গাবতলী পশুর হাটের ইজারাদারকে প্রতিটি গরুর জন্য বাড়তি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। তাই মাংসের দাম বাড়িয়েছি। 
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬