রাজধানী | The Daily Ittefaq

দূষিত পানিতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

দূষিত পানিতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ
আসিফুর রহমান সাগর২১ মার্চ, ২০১৭ ইং ০০:৫৫ মিঃ
দূষিত পানিতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

দূষিত পানি পান করার ফলে সম্প্রতি ভয়াবহ হারে বেড়ে গেছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। দূষিত পানি পানেই এসব রোগের উত্পত্তি হয়। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় এখনো সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে। এতে গোসল থালা-বাসন ধোয়ার কাজ চলে। কিন্তু খাওয়া, রান্না বান্নার কাজ সেসব পানিতে করা সম্ভব হয় না। এখনো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ হয়। সে পানি পান করলে নানা জটিল রোগের উত্পত্তি হয়। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসের মতো মারাত্মক ব্যাধির উত্স এই দূষিত পানি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত, এ রকম দূষিত পানি দীর্ঘদিন পান করতে থাকলে আরো জটিল রোগ, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে। কিডনি রোগ, আলসার, রক্তচাপ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে না পারলে জনস্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণভাবে হুমকি মুক্ত করা যাবে না।

রাজধানী ঢাকায় দৈনিক পানির দরকার হয় ২২০ থেকে ২৩০ কোটি লিটার। ঢাকার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা গড়ে দিনের চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করে। তবে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ওয়াসার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ফোটানো হলেও কিছু এলাকায় সরবরাহকৃত পানি থেকে দুর্গন্ধ যাচ্ছে না, তা পানযোগ্যও করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহকৃত পানির ১৫ শতাংশ আসে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার থেকে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা থেকে পানি এনে শোধন করে তা নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ দুই নদীর পানি এতটাই দূষিত যে তা শোধন করেও পানযোগ্য করা যাচ্ছে না। কারণ, দূষণের কারণে নদীর পানির অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু সে পানি এতই দূষিত যে তা মানুষের পানের উপযোগী করার জন্য মূল শোধনাগারে নেয়ার আগে একটি প্রাক-শোধনাগারে নিয়ে একবার শোধন করতে হয়। অর্থাত্ এসব নদীর পানি এক দফায় শোধনযোগ্য নয়। দুটি পৃথক শোধনাগারে দুই দফায় শোধন করার পরেই কেবল তা মানুষের পানের উপযোগী হয়। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। পানি বিশেষজ্ঞ ও   বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এম আশরাফ আলী বলেন, “স্বাভাবিক নিয়মে ভূগর্ভস্থ পানির যে স্তরটুকু খালি হয় তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকাসহ আরো কিছু এলাকায় তা হচ্ছে না। ভূগর্ভের পানি শুধু কমছেই, বাড়ছে না। আগে থেকেই অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতি মাত্রায় নলকূপ বসিয়ে ইচ্ছামতো পানি তুলে ফেলায় অবস্থা এমন হয়েছে যে এখন আর পানি আমাদের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলেও

ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে পানি সঠিক মাত্রায় নিরাপদ করা যাচ্ছে না মারাত্মকভাবে নদী দূষণের ফলে।”

এছাড়াও বিভিন্ন দূষিত পর্দাথের প্রকট উপস্থিতির কারণে গভীর নলকূপের পানিও আর নিরাপদ নেই। এতে ঢুকে পড়েছে পানিবাহিত রোগের উপাদান ব্যাকটেরিয়া, সেটাও ভয়াবহ মাত্রায়। এছাড়াও এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ পরিচালিত ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্টিং ল্যাবরেটরির (ডাব্লিউ কিউ টি এল) এক গবেষণায় বাংলাদেশের অধিকাংশ নলকূপের পানিতে ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ নামের একটি ভারী ধাতুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভারী এ ধাতুটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষকরা বলছেন, মাটির নিচে পানির স্তরে ভারী ধাতুর উপস্থিতির কারণে তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

পানিতে মিশে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল, ভারী ধাতু, মরিচা, সিসা, বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ইত্যাদি শুধুমাত্র ফোটানোর মাধ্যমে দূর করা যায় না। ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসের জন্য পানি সঠিক তাপমাত্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ফোটাতে হয়। কিন্তু সঠিক তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে পানি ফোটানোর বিষয়টি সবার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাই পানি  ফোটালেও ঝুঁকি রয়েই যায়। তাই সবাইকে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ পানির জন্য নির্ভর করা যেতে পারে উন্নতমানের পানিশোধনযন্ত্রের ওপর।

এদিকে, ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে, তা সরাসরি পান করা তো চরম ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি ফুটিয়ে, ফিল্টার করেও গন্ধমুক্ত পানের উপযোগী করা যায় না। আর বিশুদ্ধ খাবার পানির এই সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা রমরমা বাণিজ্য করছে। বিশুদ্ধ পানির নামে বোতলজাত পানি অথবা জেরি-ক্যানে বিক্রির ব্যবসা এখন রমরমা। কিন্তু রাজধানীসহ সারা দেশে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিরা জেরি-ক্যানে করে যে পানি বিক্রি করে তার বেশিরভাগই বিশুদ্ধ নয়।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮