রাজধানী | The Daily Ittefaq

গত বছর ৫৮ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

গত বছর ৫৮ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার
আলোচনা সভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট২১ মার্চ, ২০১৭ ইং ০১:০৮ মিঃ
গত বছর ৫৮ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

গতবছর সারাদেশে ৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সারাবছরে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে ৫৩টি। এরমধ্যে ২৮টি পার্বত্য চট্টগ্রামে, বাকি ২৫টি সমতলে। এর মধ্যে ছয়জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ১৭ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকালে ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং বাংলাদেশের আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুদের বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। মানবাধিকার সংগঠন ‘কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক’ যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, আমাদের জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এই দেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশের সরকার অনেকগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অনুস্বাক্ষর ও সহমত পোষণ করেছে। নীতিগতভাবে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রতিকারের জন্য অনেক কিছু কাজ করছে কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের সাথে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সবাই সাড়া দিয়েছিল।

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার অনেক ভালো ভালো আইন পাস করলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের অভাবে সঠিক ফলাফল আমরা পাচ্ছি না।  যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। এখন যদি কোনো একটি ছোট ঘটনায় অনেক সময় লাগে তাহলে কিভাবে হবে? তাই এই দীর্ঘসূত্রতা অবশ্যই কমাতে হবে এবং  সরকারিভাবে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া তিনি বলেন, আমাদের মনোজগতের পরিবর্তনও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে খুব জরুরি একটি বিষয়।

উইমেন সাপোর্ট ও ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ডেপুটি কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি নিজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্য হয়ে দেখেছি নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। যা খুবই দুঃখজনক। আমি নিজে ঢাকা মেট্রোপলিটন-এর ৪৯টি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বে আছি। প্রতিদিনই এখানে নারীরা সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু পুলিশ একা এই কাজে সফল হবে না। এখানে সরকারের সব সংস্থাকে মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে যতগুলো আইন আছে তা মনে হয় পৃথিবীর খুব কম দেশেই আছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা, সবকিছু মিলিয়ে আমরা ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে পারছি না।

অধ্যাপক ডা. সাদেকা হালিম বলেন, এ দেশে নারীদের সহিংসতার ঘটনার কোনো সিস্টেমেটিক তথ্য নেই। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এই ধরনের একটি ডেটাবেজ তৈরির জন্য আহ্বান জানান এবং দেশের সকল নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকারের কাছে দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাস পুরকায়স্থ, মহিলা অধিদপ্তরের হালিমা বেগম। আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সুলেখা ম্রং-এর সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী, আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অলিভিয়া হেমব্রম, সন্তোষিত চাকমা বকুল, নমিতা চাকমা, গৌরাঙ্গ পাত্র, সোহেল হাজং প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০