রাজধানী | The Daily Ittefaq

রাজধানীতে বেহাল যাত্রী ছাউনি

রাজধানীতে বেহাল যাত্রী ছাউনি
অনেকগুলো বেদখল আর পরিত্যক্ত, নগরবাসীর দুর্ভোগ
আনোয়ার আলদীন১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ইং ২৩:৩২ মিঃ
রাজধানীতে বেহাল যাত্রী ছাউনি

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের যাত্রী ছাউনিতে একজন রীতিমত হেঁশেল বানিয়ে ভাজাপোড়া খাবার বিক্রি করছে। যাত্রীদের দাঁড়ানোর স্থান নেই। সিরামিকের তৈরি বসার জায়গা থাকলেও উপরে ছাদ নেই ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের উল্টো দিকের যাত্রী ছাউনিতে। সেখানে এক ভবঘুরে তিনটি বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে রাতদিন শুয়ে-বসে থাকে। পথচারীরা এই কুকুরের ভয়ে অনেক সময় ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে বাস স্টপেজের সামনের যাত্রী ছাউনির পুরোটাই হকারদের দখলে। যাত্রী বসার ব্যবস্থা তো দূরের কথা, দোকানিদের দাপটে হাঁটাচলায়ই দায়। কাকরাইল মোড়ের দিকে যাওয়ার পথে শান্তিনগরের যাত্রী ছাউনিটির কিছু ঝং ধরা স্টিল এবড়ো-থেবড়োভাবে মাথার উপর ঝুলছে। উপরে ছাদ নেই। বসার জায়গা নেই শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের দুটি ছাউনিতেই। গ্রাফিক আর্টস এন্ড ইনস্টিটিউটের পাশের ছাউনিতে একটি ড্রাইভিং শেখার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে তাদের ঠিকানা। মিরপুর বাংলা কলেজের সামনের যাত্রী ছাউনিটিতে বসলে দুর্গন্ধে টেকা যায় না। এমন দৃশ্য রাজধানীর প্রায় সব যাত্রী ছাউনিরই। এগুলোতে নেই নজরদারি, রক্ষণাবেক্ষণ বা দখলদার উচ্ছেদের ব্যবস্থা।

মূলত রোদ-বৃষ্টির সময় পথচারীদের আশ্রয় পেতে আর পরিবহন যাত্রীদের অপেক্ষমাণ প্রহরে বিশ্রামের জন্য রাজধানীতে তৈরি করা হয়েছিল দুই শতাধিক যাত্রী ছাউনি। এখন তার প্রায় সবগুলোই বেদখল। অনেক যাত্রী ছাউনি আবার ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্য।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রায় সব যাত্রীছাউনিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিলুপ্ত হওয়ার পথে অনেকগুলো। এতে দুর্ভোগে পড়ছে পথচারী ও বাসযাত্রীরা। যাত্রী ছাউনি নিয়ে নগরবাসীর নানা প্রকার বিড়ম্বনা ও অভিযোগের অন্ত নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১২৯টি। এর মধ্যে ৯৬টি সিটি করপোরেশনের। ১৮টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বরাদ্দ দেওয়া। সড়ক ও জনপথ, বিআরটিসি ও অন্যান্য সংস্থার অনুমোদিত যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। চুক্তি নবায়ন হয়েছে ৬১টির। আর সংস্কারযোগ্য যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১০টি। উচ্ছেদযোগ্য আছে ১৩টি।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৬টি যাত্রী ছাউনি ছিল। এর মধ্যে ৫৭টি ইজারা দেওয়া হয় একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানিকে। তারা ৩২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে। এছাড়া অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানি নির্মাণ করে আরো ২৯টি যাত্রী ছাউনি। মোট ৬১টি যাত্রী ছাউনি ২০০৭ সালে চুক্তির মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা শেষ হয়েছে ২০১২ সালে। এরপর আর কোনো যাত্রী ছাউনির অনুমোদন বা নবায়ন করা হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, গতিশীল নগরে পরিচ্ছন্ন পার্ক, হাঁটার জন্য প্রশস্ত  ফুটপাত এবং পরিবহনের জন্য যাত্রী ছাউনি অপরিহার্য। পৃথিবীর সকল দেশেই নগরজীবনে একটু স্বস্তির জন্য এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। আধুনিক শহরগুলোর রাস্তায় বসার জায়গা, ছাউনি ও ডিজিটাল বোর্ডে বাসের সময়সূচি থাকে। আর আদর্শ মডেল হচ্ছে প্রতিটি বাস স্টপেজে একটি করে যাত্রী ছাউনি থাকা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, যাত্রী ছাউনিগুলো ভাঙাচোরা। আবার এর অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। ফলে এমন কিছু লোকের আনাগোনা সেখানে থাকে, যার ফলে নারী ও সাধারণ যাত্রীরা বসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। এতে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা রাস্তায় নেমে আসায় যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ডিএনসিসির একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের মধ্যেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যাত্রী ছাউনিগুলো নির্মাণ করা হবে। মহাপরিকল্পনার আওতায় যাত্রী ছাউনি আধুনিকায়নের প্রকল্পের কাজ চলছে। ফার্মগেট, শ্যামলী, আসাদগেট এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ছাউনিগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব স্থানে নতুন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যত্ ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। একসময় বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত কাজে এসব ছাউনি বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান এগুলো দেখাশোনা করত। এখন সিটি করপোরেশনই এগুলো দেখাশোনা করবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬