রাজধানী | The Daily Ittefaq

শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল

শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ২০:১৯ মিঃ
শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল
বিমান চালিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের (ভিভিআইপি) ব্যক্তিদের বাসভবনে আঘাত করে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার সাব্বির এনাম সাব্বির। জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করে টুইন টাওয়ারে হামলার আদলে হামলা চালানোর এই পরিকল্পনা করেন তিনি। এর বাইরে তার আরও পরিকল্পনা ছিল বিমান যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে অবতরণ করে অপহর করা। তার আগেই তাকে গ্রেফতার করে ফেললো র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 
 
গত সোমবার দিনগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত অপর তিনজন হলেন- সাব্বিরের মা সুলতানা পারভীন (৫৫), সাব্বিরের মামাতো ভাই আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) ও জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী মো. আলম (৩০)। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব এসব তথ্য জানায়। 
 
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন,  গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দারুস সালামে জঙ্গি আব্দুল্লাহর আস্তানা কমল প্রভা বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযান চলাকালীন আত্মঘাতী বিস্ফোরণে জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান এবং দুই সহযোগী নিহত হন। এ ঘটনার পর র‌্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং দায়ের করা মামলায় কমল প্রভা বাড়ির মালিক হাবীবুল্লাহ বাহার আজাদসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে আব্দুল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিল্লাল হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার দিনগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরসহ এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। 
 
তিনি আরও বলেন, মিরপুরে র‌্যাবের অভিযানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত আব্দুল্লাহর ভাড়া বাড়ির মালিকের ছেলে সাব্বির এমাম সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের ফাস্ট অফিসার গ্রেফতারকৃত পাইলট। সে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী হতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এরপর সে ২০১০ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত Regent Airways তে চাকরি করে এবং এ সময় স্পেন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে হতে অদ্যাবধি সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে চাকরিরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। তিনি সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। গ্রেফতারকৃত সাব্বির তুর্কি থেকেও বিমান চালনার ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সে দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিংগাপুর, মালেয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য আরও অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছে।
মুফতি মাহমুদ আরো বলেন, জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। নব্য জেএমবি নেতা সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে তিনি জঙ্গিবাদের দীক্ষা নেন। গুলশান হামলার আগে ও পরে আব্দুল্লাহ, গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির, সারোয়ার একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাত করা অথবা বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। তার চাকুরির ভাতা বাবদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল এবং ওই টাকাগুলো পেলেই আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করবে বলে আব্দুল্লাহকে কথা দিয়েছিল।
 
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত মোসা. সুলতানা পারভীন (৫৫) কমল প্রভা বাসার মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের স্ত্রী এবং সাব্বিরের মা। সে আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে যেয়ে এবং ছাদে উঠে প্রায়শঃ জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে আব্দুল্লাহর সাথে আলোচনা করত। সে আব্দুল্লাহর বাসায় জঙ্গি সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। এছাড়াও সে আব্দুল্লাহকে সংগঠনের জন্য বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে র‌্যাব প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।
 
এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসিফুর রহমান আসিফ গ্রেফতারকৃত সুলতানা পারভীনের ভাই এর ছেলে। আব্দুল্লাহর সাথে আসিফ এর ঘনিষ্ঠতা ছিল বিধায়, প্রায়শঃ সে আব্দল্লাহর বাসায় যাতায়াত করত এবং জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করত। আসিফ জঙ্গি আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সে জঙ্গি সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। সে বিস্ফোরক তৈরির জন্য আব্দুল্লাহর বাসায় বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল সরবরাহ করত। এছাড়াও সে তার বন্ধুর কাছ থেকে একটা ৯ এমএম পিস্তল এনে আব্দুল্লাহর নিকট সরবরাহ করতে চেয়েছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আব্দুল্লাহ পিস্তলটি গ্রহণ করেনি।
 
গ্রেফতারকৃত মো. আলম (৩০) দারুস সালাম থানা এলাকার একজন চায়ের দোকানদার। সে বিভিন্ন সময় সংগঠনের কাজে আব্দুল্লাহকে গাড়ি সরবরাহ করত। গত রমজান মাসে আলমের মাধ্যমে একটি ট্রাক ভাড়া করে ইউরোপে হামলার মত নিকটস্থ কোনো পুলিশি স্থাপনায় গাড়ি হামলার পরিকল্পনা করে বিল্লাল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গাড়ি চালানো শিখে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির ন্যায় এদেশে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি অথবা গাড়ি বোমা হামলা করা। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩