রাজধানী | The Daily Ittefaq

মা-ছেলে খুন : করিম ও তৃতীয় স্ত্রী ৬ দিনের রিমান্ডে

মা-ছেলে খুন : করিম ও তৃতীয় স্ত্রী ৬ দিনের রিমান্ডে
‘পছেনে পরিবারেরই কেউ না কেউ’
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ১৮:৩৪ মিঃ
মা-ছেলে খুন : করিম ও তৃতীয় স্ত্রী ৬ দিনের রিমান্ডে
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
চার বছর আগে এফডিসিতে মুক্তি পায় ‘বন্ধু তুমি শত্রু তুমি’ সিনেমাটি। এই সিনেমার প্রযোজক হলেন শেখ মো. আব্দুল করিম। ছবিটি শাওন কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মিত। এই ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো মুন্না ফুড এ্যান্ড বেভারেজ। এই ছবিতে চিত্র নায়ক মারুফ ও নায়িকা সাহারার সঙ্গে শেখ মো. আব্দুল করিম পুলিশের ওসি’র চরিত্রে অভিনয় করেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ফ্ল্যাটে মা শামসুন্নাহার করিমের সঙ্গে শাওনও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পারিবারিক কলহ বা অর্থ সম্পদের লোভে রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এই জোড়া খুনের পরিকল্পনায় পরিবারের কেউ না কেউ জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শুক্রবার পুলিশ শেখ মো. আবদুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এর আগে তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন জানিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠায়। আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৬ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম রোডের ৭৯/১ নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় জোড়া খুনের পর সেখানে এখন সুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ভাড়াটিয়াদের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। কেউই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক ৬তলার দুই (নারী) ভাড়াটিয়া বলেন, গৃহকর্তা শেখ মো. আবদুল করিমের একাধিক বিয়ে নিয়ে পরিবারের অশান্তি ছিল। নিহত শামসুন্নাহার করিম তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। চার বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে আবদুল করিম অভিনেত্রী মুক্তাকে বিয়ে করেন। আবদুল করিমের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত। চলচ্চিত্রে প্রযোজনা করতে গিয়েই মুক্তার সাথে তার পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। এই বিয়ে নিয়ে গৃহকর্তা শেখ মো. আবদুল করিমের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের ঝগড়া লেগেই থাকত। এই ঘটনার কিছুদিন আগে ছোট স্ত্রী মুক্তা দলবল নিয়ে এসে শাসমুন্নাহার ও তার ছেলে শাওনকে মারধর করে চলে যায়। আবদুল করিমের দু’টি বাড়িসহ অনেক সম্পত্তি আছে। এ নিয়েও নানা দ্বন্দ্ব চলছিল। কিছুদনি আগে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হাতাহাতিও হয়। তখন আবদুল করিম শামসুন্নাহারকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন। করিমের বড় ছেলে মুন্না লন্ডন ও মেজো ছেলে অনিক কানাডা প্রবাসী। 
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, গৃহকর্তা আব্দুল করিমের ৩টি বিয়ে নিয়েও রহস্য আছে। মুক্তাকে তৃতীয় স্ত্রী বলা হলেও তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর কোন অস্তিত্ব মিলেনি। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তা জানিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর চার বছর আগে আব্দুল করিম তাকে বিয়ে করেন। পুলিশ কথিত তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুঁজছে। গৃহকর্মী রাশিদা ও নিরাপত্তাকর্মী নোমানকে পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার পরপরই স্বামী আবদুল করিম, নিহত মা-ছেলেসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) নিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছে পুলিশ।
 
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল হক বলেন, নিহতের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আব্দুল করিম ও মুক্তা ছাড়াও মুক্তার ছোট ভাই আল আমিনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আল আমিনকে আটকের চেষ্ট করছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭