রাজধানী | The Daily Ittefaq

ভাগ্য বদলে লাখো মানুষ স্বপ্ন দেখে সেতুর

ভাগ্য বদলে লাখো মানুষ স্বপ্ন দেখে সেতুর
রফিকুল ইসলাম রবি১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ০২:৪৩ মিঃ
ভাগ্য বদলে লাখো মানুষ স্বপ্ন দেখে সেতুর

চারদিক পানি। মাঝখানে একটি দ্বীপ। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। রিকশাচালক, ছোট-খাটো ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস কর্মীসহ নানা পেশায় জড়িত এখানকার বাসিন্দারা। বাড়ি ভাড়া ঢাকার তুলনায় অনেক কম। অথচ ঢাকার খুব কাছে। এজন্য এখানে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস সবচেয়ে বেশি। তবে পর্যাপ্ত নেই নাগরিক সুবিধা। বলছিলাম তুরাগ নদের মাঝে অবস্থিত কাউন্দিয়া ইউনিয়নের কথা।

শিক্ষা, চিকিত্সা, বাসস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছে এখানে বসবাস করা লক্ষাধিক মানুষ। ঢাকা লাগোয়া হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দারা। তবে এলাকাবাসীর দাবি, একটি সেতুতে আটকে আছে তাদের নাগরিক সুবিধাগুলো। যত দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হবে, তত দ্রুত পাল্টে যাবে এখানকার মানুষের জীবনমান। এলাকাবাসী মনে করেন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এখানকার মানুষের ভাগ্যের চাকা বদলে যাবে। কারণ, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিত্সা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুর উন্নয়ন হবে। নাগরিক সুবিধা পেলে রাজধানীর অনেক মানুষ কাউন্দিয়া ইউনিয়নে বসবাসের আগ্রহ দেখাবেন।

বর্তমানে এখানে নেই বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা। পানির জন্য তুরাগ নদ, গভীর ও অগভীর নলকূপের উপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকায় লাকড়ির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাসেই চলে রান্নাবান্নার কাজ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য নেই ভালো কোনো স্কুল। মাধ্যমিক শেষ করার মতো কয়েকটি হাই স্কুল থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার জন্য নেই কোনো কলেজ। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়তে হলে তুরাগ নদ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে কোনো না কোনো কলেজে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমন দুর্ভোগের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকরা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

অন্যদিকে এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। চারদিক পানিবেষ্টিত ইউনিয়নের আয়তন ১১ দশমিক ৪৭ বর্গমাইল। এখানকার ২২টি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। মিরপুর দিয়াবাড়ি থেকে সাভার থানাধীন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যে দূরত্ব মাত্র কয়েক’শ গজ প্রশস্ত তুরাগ নদ। এটি পার হতে নৌকায় সময় লাগে মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট। এখানকার অন্তত ৫০ হাজার লোক প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াত করেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শ’তিনেক নৌকায় পারাপার চলে মিরপুরের দিয়াবাড়ি ও কাউন্দিয়ার মধ্যে। রাত ১২টার পর দুর্ভোগে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। বেশি ভাড়া দিয়ে তখন নৌকা পারাপার হতে হয়।

অন্যদিকে বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ আরো বাড়ে। দীর্ঘ লাইন ধরে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষাকালে এর গভীরতা ও আয়তন বেড়ে যায়। অন্যদিকে পারাপার করতে গিয়ে প্রায় ঘটে দুর্ঘটনা। ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সেতু একমাত্র উপায় বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

চলতি বছর একনেকের বৈঠকে মিরপুর-কাউন্দিয়া সেতু নির্মাণে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমনটিই জানান কাউন্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান খান। যত দ্রুত সেতু নির্মিত হবে তত এখানকার লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০