রাজধানী | The Daily Ittefaq

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনেই গেল প্রাণ

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনেই গেল প্রাণ
পুরান ঢাকার সাঈদ হত্যা রহস্য উদঘাটন শশুর-জামাইসহ ১১ জন মিলে সাঈদকে হত্যা করে
আবুল খায়ের২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ২২:৫৬ মিঃ
মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনেই গেল প্রাণ

মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন শাহেদ ওরফে সাঈদ। যখনই কাউকে মাদক সেবন করতে দেখতেন তখনই মাদকের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বুঝাতেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের তিনি চরম ঘৃণা করতেন। দেশকে মাদকমুক্ত দেখার স্বপ্ন ছিল তার। তবে নিজের বাসার সামনে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় ২৮ বছর বয়সী এই সাঈদকে নিজের জীবন দিতে হলো। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ২০১৬ সালের ৯ জুলাই শ্যামপুর থানাধীন ১৭৩ নম্বর ডিআইটি প্লট ভিলার সামনে রাত পৌনে ৩টায় সাঈদকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীদের ১১ সদস্যের একটি দল। বিচ্ছিন্ন হাত, পা, দেহ, নাড়ি-ভূড়ি রাস্তায় পড়ে থাকে।

ঘটনার পর শাহেদ ওরফে সাঈদের স্ত্রী মোসাঃ কনিকা আক্তার শ্যামপুর থানায় ১১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। পাপ্পু ওরফে অপু নিজেকে জড়িয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে কায়দায় সাঈদকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে এর বিস্তারিত তুলে ধরে। জড়িত অন্যান্য খুনিদের নাম ঠিকানা ও হত্যাকান্ডের মুটিভ সম্পর্কে জবানবন্দীতে উল্লেখ করে। কারা নাড়ি-ভূড়িতে ছুরি নিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে তার সার্বিক বিষয় উঠে এসেছে ওই জবানবন্দিতে। পরে শ্যামপুর থানা থেকে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সূত্রপুর থানা বিএনপির তাত্কালীন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান মন্ডল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মালেক। তার নেতৃত্বে ১১ জন সাঈদকে হত্যা করে। মালেকের ভাই আব্দুর রহমান ও মেয়ের জামাতা লোকমানও ওই ১১ আসামির মধ্যে রয়েছে। মালেকের হাবিবুর রহমান মন্ডল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। ১০ বছর জেল খেটে বাইরে বেরিয়ে সে এলাকায় মাদকের একচেটিয়া ব্যবসা শুরু করে। তার জামাতা ও ভাই মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং তাদের রয়েছে অস্ত্রের ব্যবসাও। এক পর্যায়ে তারা সাঈদের বাড়ির সামনে রমরমা ব্যবসা চালায়। এতে বাধা দেন সাঈদ। ২০১৬ সালের ৯ জুলাই রাতে বাসায় ফেরার সময় মালেকের নেতৃত্বে তার ভাই আব্দুর রহমান, জামাই লোকমান, পাপ্পুসহ ১১ জন মাদক ব্যবসায়ী মিলে কুপিয়ে সাঈদকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে। তার খন্ড বিখন্ড মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সরেজমিনের এই প্রতিনিধি ঢালকানগর এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সময়ের সাঈদ হত্যাকান্ড সম্পর্কে আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিন নারী ও চার পুরুষ সাঈদ হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এই এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেচাকেনা চলছে। এলাকাবাসী দেখেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার কারণে অনেকে লেখাপড়া বন্ধ করে এক প্রকার বন্দি জীবন যাবন করাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত সাঈদের বাসার সামনে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে জীবন দিতে হলো। তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তাকে মাদক ব্যবসায়ীরা নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে এসে প্রকাশ্যে উেকাচ নিতেও দেখেন তারা। এলাকার এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাকর্মীও এই মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারাও নিয়মিত পাচ্ছে মাদক ব্যবসার ভাগ। এ কারণে সাঈদ হত্যাকান্ডের পরেও প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা রমরমা- এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এদিকে সাঈদ হত্যকান্ডের তদন্ত নিয়েও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতিরও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সিআইডির ইন্সপেক্টর সুলতান আহমেদ তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ১১ আসামীর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে মালেক, পাপ্পু ওরফে অপু, তপন, সৌরভ জেল হাজতে রয়েছে। অপর গ্রেফতারকৃত তিন আসামি লোকমান, হাবিবুর রহমান হাবু ও ফারুক জামিনে রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১