রাজধানী | The Daily Ittefaq

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

আলোচনায় তাপস-রবি
আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী
মেহেদী হাসান২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ০০:১০ মিঃ
আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু সংসদীয় আসনে এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একজনের বেশি প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। এরমধ্যে একটি হলো ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-জিগাতলা)। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ছাড়া আওয়ামী লীগে অন্য কারও নাম আলোচনায় নেই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের একমাত্র সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার তাপস। এদিকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন সাবেক এমপি ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমদ। তার মৃত্যুতে এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় আরো রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ও সাবেক কমিশনার আবদুল লতিফ। এছাড়া এ আসনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদার বড় বোন বিন্দুর প্রার্থিতা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।

রাজধানীর হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট নিয়ে গঠিত ঢাকা ১০ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ ফজলে নূর তাপস। এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত করেন বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদকে। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন তাপস। সুদর্শন এই সংসদ সদস্য আইনজীবী হিসেবেই সুপরিচিত। তিনি অনেকটা ভিন্ন ধাঁচে রাজনীতি করেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সেবামূলক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। দুই মেয়াদ ধরে সংসদ সদস্য থাকা তাপসকে নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে কোনো বিতর্ক উঠেনি। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনির বড় সন্তান হওয়ায় তার প্রতি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সহানুভূতি রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে বেশ স্নেহ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই ভয়াল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিন তাপসের বাবা-মা শেখ মনি ও আরজু মনিকেও হত্যা করে খুনিরা। সেই সময়ের স্কুলছাত্র তাপস রাজনীতিতে আসার পরেই তাকে স্বাগত জানায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। ফজলে নূর তাপস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই ধানমন্ডি এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। এছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে সবসময়ই পাশে থাকেন। দক্ষ, বিচক্ষণ, সাদালাপী হিসেবেও পরিচিত তিনি।

এলাকার জনগণ জানান, এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা-ঘাট তৈরি ছাড়াও পয়ঃনিষ্কাশন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে তাপস ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে তার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আবারো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন এটাই আমরা মনে করি। অনেকটা প্রচারবিমুখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচন প্রসঙ্গে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঢাকা-১০ আসনটিতে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত পাঁচবারই প্রার্থী বদল করেছে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। স্বয়ং খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র নেতারা এ আসনে নির্বাচন করেছেন। পঞ্চম সংসদে আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি হন দলের তত্কালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ। সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আবার প্রার্থী পাল্টায় বিএনপি। সেক্টর কমান্ডার মে. জে. (অব.) মীর শওকত আলী বীর উত্তম ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেনের কাছে হেরে যান। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আবার প্রার্থী হয়ে জয়ী হন খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমদ। তবে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের কাছে হেরে যান তিনি। ওই পাঁচ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে মীর শওকত আলী ও মাহবুব উদ্দিন মারা গেছেন। জমির উদ্দিন ও বেগম খালেদা জিয়ার এখান থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাই এখানে নতুন মুখ আসছে একরকম নিশ্চিত।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতার জন্য এখন  দুই তরুণ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। দলের কেন্দীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ও  লন্ডন প্রবাসী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম এই আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন। শেখ রবিউল আলম রবি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদেও আছেন। এলাকায় জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ কর্মকাণ্ডের কারণে দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন শেখ রবিউল আলম রবি। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশুনা করেছেন। স্কুল জীবনে ছাত্রদল থেকে রাজনীতির শুরু। রাজধানীতে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিতে যাদের সক্রিয়তা বেশি তাদের মধ্যে রবি অন্যতম। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে প্রায় একশ মামলার আসামি এই তরুণ নেতা। একাধিকবার জেলও খেটেছেন।

আগামী নির্বাচনে দল তাকে প্রার্থী করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে রবিউল আলম রবি ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিএনপিতে নিরলসভাবে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করছি। সক্রিয়ভাবে রাজপথে থাকার চেষ্টা করেছি। নেতা-কর্মীদের পাশে আছি সব সময়। তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। ব্যক্তির যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

এদিকে এই আসনে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমও মনোনয়ন চাইতে পারেন। নাসির উদ্দিন অসীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা। দীর্ঘকাল সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় তার তেমন সক্রিয়তা নেই। তার বিরুদ্ধে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করা, নেতা-কর্মীদের পাশে না থাকা ও এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ করেছেন ধানমন্ডি বিএনপির কেউ কেউ। বিশেষ করে নয়াপল্টনে সহকর্মীদের হাতে ধানমন্ডি থানা শ্রমিক দলের সভাপতি বাবুল সরদার নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যারিস্টার অসীমকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন নিহত বাবুলের স্ত্রী। অভিযোগ আছে, কমিটি নিয়ে ফেসবুকে বাবুলের দেওয়া একটি পোস্টকে ঘিরে অসীমের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে তার বক্তব্য জানতে লন্ডনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে ধানমন্ডি থানা বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অসীম পরিবার নিয়ে বহু বছর ধরে থাকেন দেশের বাইরে। এলাকার সাথে তার যোগাযোগ কম। অসীমের নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। মামলা-মোকাদ্দমায় নেতা-কর্মীরা জর্জরিত। কিন্তু নেতা পাশে নেই। এটা দুঃখজনক। এই আসনে রবি ভাই ছাড়া বিকল্প কেউ নেই।

এদিকে এ আসনে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু ও সাবেক কমিশনার আবদুল লতিফের নাম শোনা গেলেও তাদের ব্যাপারে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া নেই বলে জানা গেছে।

(আগামীকাল পড়ুন ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচনী সংবাদ)

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯