রাজধানী | The Daily Ittefaq

বিনোদন কেন্দ্রে প্রাণের হিল্লোল

বিনোদন কেন্দ্রে প্রাণের হিল্লোল
মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ১৯ জুন, ২০১৮ ইং ১০:২৯ মিঃ
বিনোদন কেন্দ্রে প্রাণের হিল্লোল
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিনোদন কেন্দদ্রগুলো মেতেছে উত্সবে। ঈদের দিন শনিবার থেকে গতকাল সোমবারও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে আনন্দের  বন্যা। রঙিন পোশাক পরা শিশু-কিশোরদের  উচ্ছ্বাসে  প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। এসব স্থানে যে কেবল শিশু-কিশোররাই এসেছে তা নয় তাদের সঙ্গে আসে নানা  বয়সী নারী-পুরুষ।
 
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুরা দখল করে নেয় শিশু পার্কগুলো। ঘূর্ণি চরকি, যুদ্ধ বিমান, ট্রেন সবই চড়তে হচ্ছিল দীর্ঘ লাইন দিয়ে। অপেক্ষা সইতে না পেরে কাউকে কাউকে কাঁদতেও দেখা গেছে। তবে ভ্যাঁপসা  গরমে শিশুদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় অভিভাবকদের। বিনোদন কেন্দ্রগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা ছিল। জাতীয় জাদুঘর গত দুই দিনই ছিল দারুণ ভিড়। মিরপুর চিড়িয়াখানায়  দর্শনার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি। এখানে বন্য পশুপাখির বিচিত্র সব কাণ্ড-কারখানা দেখে আনন্দে  সময় কাটান বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সকাল থেকেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকলেও দুপুরের পর তা রীতিমতো জনারণ্যে পরিণত হয়।
 
৯৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই চিড়িয়াখানায় রয়েছে দেশি-বিদেশি অসংখ্য প্রজাতির পশুপাখি। বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ, জেব্রা, বানরসহ আরো অনেক প্রজাতির পশু-পাখি। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচার সামনে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ভিড়। বানরের বাঁদরামি দেখেও মুগ্ধ ছেলে-বুড়ো সকলে। চিড়িয়াখানায় একটি প্রাণি জাদুঘরও রয়েছে। রাসায়নিকভাবে মমি করে সংরক্ষণ করা বিভিন্ন প্রাণির দেহ দেখতেও কৌতুহলী ছিলেন অনেকেই। চিড়িয়াখানা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।
 
শ্যামলীতে শিশুদের বিনোদনের জন্য বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে শিশুমেলা। অল্প পরিসর আয়োজন হলেও এখানে রাইড কম নয়। ওয়ান্ডার হুইল, বেবি কার নামের রাইডগুলো বরাবরের মতোই উপভোগ করছে শিশুরা। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কও ছিল লোকারণ্য। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই রাজধানীবাসীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পার্কগুলো।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসি, হাকিম চত্বর, কলাভবনেও ছিল তরুণদের ভিড়। বাদ যায়নি সাবেক শিক্ষার্থীদের আড্ডাও। ঢাকাকেন্দ্রিক শিক্ষার্থীরা অনেকেই উদ্?যাপন করছেন ঈদ পুনর্মিলনী। কেউ মেতে ওঠেন ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান বলেন, এসব জায়গায় কত দিনরাত কাটিয়েছি। এখন এলে সব আবার নতুন করে মনে পড়ে। ভালই লাগে। অনেক সময় পুরানো বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হয়ে যায় ক্যাম্পাসে এলে।
 
এসবের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন উদ্যান ছিল বিনোদন প্রিয় মানুষের পদচারণায় মুখর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডি ররীন্দ্র সরোবর পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, সকলেই নিজেদের মতো করে ঈদ উদ্?যাপনে ব্যস্ত। ধানমন্ডি লেকে নৌকায় ঘুরে বেড়িয়েছে অনেকে। নান্দনিক হাতিরঝিল, কুড়িল বিশ্বরোডের ওভারব্রিজে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল গভীর  রাত পর্যন্ত।
 
আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কেও ছিল ভিড়। এ সবের পাশাপাশি সিনেমা হলগুলোতে নতুন ছবি দেখার জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকা সিনেপ্লেক্সে ভিড় ছিল উপচে পড়া। ভিড় ছিল যমুনা ফিউচার পার্কের থিম পার্ক ও ব্লকবাস্টার সিনেমা হলেও।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫