রাজধানী | The Daily Ittefaq

এক মাসে ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

এক মাসে ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা
অনলাইন ডেস্ক৩১ জুলাই, ২০১৮ ইং ২০:৩৭ মিঃ
এক মাসে ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা
ধোলাইপাড়ের মো. আজিম তার এক বছরের শিশু সন্তান আলেয়াকে নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েন। হঠাৎ করেই শিশুটির পেটে ময়লা চলে যাওয়ায় যন্ত্রণাদায়ক পীড়া দেখা দেয়। মহাখালীর আইসিডিরিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না আজিম। হাসপাতাল থেকে আলেয়াকে ফেরত দেয়া হয়। অবশেষে এক সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকের কাছে খবর পান তার বাড়ির পাশেই জুরাইনের বালুরমাঠে রয়েছে আদ্‌-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতাল। সম্প্রতি স্থাপিত এ হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে চলে যান আজিম। মাত্র চারদিনের চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায় আলেয়া। সন্তানের মুখে হাসি দেখে চোখে পানি চলে আসে আজিমের। আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি। এরপর পরিবারের যারই অসুখ হয় তিনি প্রথমেই নিয়ে আসেন আদ-দ্বীন হাসপাতালে। 
 
মো. আজিম বলেন, মেয়েক নিয়ে বড়ই বিপদে পড়েছিলাম। এ হাসপাতাল, ও হাসপাতাল ঘুরেও কোনো কুলকিনারা পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতালে এসে স্বস্তি পেলাম। এখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যবহার অত্যান্ত ভালো। তারা মেয়ের অনেক যত্ন করে চিকিৎসা করেছে। বিনামূলে বর্হিবিভাগের টিকিট পেয়েছি। এরপর ওয়ার্ডে এক হাজার ৫০ টাকা দিয়ে ভর্তি হলে তিন বেলা ভালো মানের খাবার দিয়েছে। ওষুধ নিজেকে কিনে নিতে হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে চলে যাওয়ার সময় দুইশো টাকা ফেরত দিয়েছে। এখানে চিকিৎসা ভালো হওয়ায় পরে আমার ভাইয়ের ছেলে এবং খালাকেও এখানে এনে চিকিৎসা করিয়েছি। 
 
শুধু আজিম নয় হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীই আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতালের চিকিৎসায় অনেক খুশি। 
 
শ্যামপুর থেকে চোখ দেখাতে আসা গৃহবধূ সালমা আক্তার বলেন, এখানকার চিকিৎসা বেশ ভালো। চিকিৎসকরা অত্যান্ত আন্তরিকভাবে সব কথা শুনে তারপর ওষুধ লিখে দেন। কোনো তাড়াহুড়ো করেন না। আমার সব কথা শোনার পর তারপর পরামর্শ এবং ওষুধ লিখে দিয়েছে এটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আগে যখন অন্য চিকিৎসকের কাছে যেতাম তখন তাড়াহুড়ো করে কোন কথা ঠিকমত না শুনেই ওষুধ লিখে দিত। এখানে এর ব্যতিক্রম দেখলাম। আবার খরচও অনেক কম। 
 
আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতালের ম্যানেজার তাহমিনা নাজনিন খান বলেন, বহির্বিভাগে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাসব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এ সেবা দেয়া হয়। গত এক মাসে প্রায় দশ হাজার রোগীকে বহির্বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। 
 
তিনি আরো বলেন, সেবা মাসের পর রোগীদেরকে সেবা গ্রহণের জন্য প্রথমেই ১৬০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর বিনিময়ে তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পাবেন। কোনো রোগী ওয়ার্ডে চিকিৎসারত থাকলে তাকে ডাক্তার যতবারই দেখুক কোনো টাকা দিতে হবে না। তাদের বিনামূল্যে খাবারও পরিবেশন করা হবে। গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিক ডেলিভারি (প্যাকেজ) মাত্র তিন হাজার নয়শ টাকা। আর সিজার করতে হলে লাগবে মাত্র আট হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে তাকে বিনামূল্যে ওষুধও দেয়া হবে। 
 
হাসপাতালের ম্যানেজার (ব্যবসায় উন্নয়ন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছরের ২৭ মে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সে সময় গর্ভবতী মায়েদের মাসব্যাপী বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এরপর গত ১ জুলাই থেকে হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এজন্য আবার মাসব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। মোট ১২টি বিভাগে রোগীদের  চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এগুলো হল-স্ত্রীরোগ ও ধাত্রী বিভাগ, শিশু, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, সার্জারি, ইউরোলজী, অর্থোপেডিক্স, চোখ, নাক-কান-গলা, দাঁত, চর্ম ও ফিজিওথেরাপি।  
 
তিনি আরো বলেন, অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় এ হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে উন্নতমানের সেবা পাবেন রোগীরা। এজন্য বিদেশ থেকে অনেক দামি যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এক কোটি টাকা ব্যয়ে জাপান থেকে আলট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র আনা হয়েছে। ফিজিওথেরাপির জন্য নেদারল্যান্ড থেকে খুবই উন্নত মানের যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে আলাদা ওয়ার্ড। ফিজিওফেরাপির ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। আপাতত ছোট অপারেশনের জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।পরবর্তীতে হাসপাতালের দশ তলায় আরো বড় পরিসরে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হবে। 
 
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশেই জুরাইন বালুর মাঠে ৩০ কাঠা জমির উপর অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ গড়ে উঠেছে ১১ তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতাল। যেখানে রয়েছে পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। পুরো হাসপাতালেই এয়ার কন্ডিশনের (এসি) ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি রয়েছে তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রয়েছে ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’। হাসপাতালেই পাওয়া যাবে ওষুধ। এজন্য নিচতলায় রয়েছে একটি বৃহৎ পরিসরের ফার্মেসি। যা ২৪ ঘণ্টায়ই খোলা রাখা হয়। রয়েছে উন্নত মানের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও কাফেটোরিয়া।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭