রাজধানী | The Daily Ittefaq

‌‘ছয় বছরেই যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব’

‌‘ছয় বছরেই যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব’
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২০:৩৪ মিঃ
‌‘ছয় বছরেই যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব’
২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে (এসডিজি) একযুগ নয় মাত্র ছয় বছরেই যক্ষ্মা রোগের মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমাতে সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, অল্প সময়ে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করতে পারি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গি দমন করতে পারি, নারীর ক্ষমতায়ন করতে পারি- তাহলে যক্ষ্মা কেন নির্মূল করতে পারব না?
 
তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন। 
 
সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাফল্য ও প্রতিবন্ধকতা; আসন্ন জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সভায় জাতীয় অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, দৈনিক ইত্তেফাক ও ব্র্যাক।
 
সামগ্রিকভাবে যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এলেও এসডিজি অর্জনে এখনও শনাক্ত না হওয়া যক্ষ্মা রোগী সেবার আওতায় না আসা, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, নগরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ, তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার সুযোগ না থাকা, এই রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাইভেট চিকিৎসকদের কম সম্পৃক্ত থাকা, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ বাধ্যতামূলক না হওয়া প্রভৃতি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা মনে করেন। 
 
এ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ডা. রুপালী শিশির বানু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সরদার মুনিম ইবনে মহসিন। দৈনিক ইত্তেফাক এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেনর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম, ন্যাশনাল অ্যান্টি টিউবারকিউলোসিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নাটাব)-এর প্রেসিডেন্ট মোজাফফর হোসেন পল্টু, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ওয়াশ ও ডিএমসিসি কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন দৈনিক ইত্তেফাক এর প্রতিবেদক আসিফুর রহমান সাগর। 
 
মোহাম্মদ নাসিম চিকিৎসা ক্ষেত্রে জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে ৪০ হাজার নার্সের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। আমি দুই মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে এ সমস্যার সমাধান করেছি এবং ৪০ হাজার নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যম কর্মীদের আহ্বান জানান মন্ত্রী। 
 
অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে আমাদেরকে দু’টি পর্যায়ে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে। একটি হচ্ছে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, অন্যটি হচ্ছে এর প্রতিরোধী ব্যবস্থা। 
দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, যক্ষ্মা শরীরের সর্বত্র হতে পারে এমন তথ্যগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুর যক্ষ্মা বিষয়ে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার টার্গেট ঠিক করে কাজ করছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা একযোগে কাজ করলে এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলে বাংলাদেশ যক্ষ্মামুক্ত হবে।
 
ড. মো. আকরামুল ইসলাম যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ৩টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো হচ্ছে- পুরানো আমলের পরিবর্তে আধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা চালু করা, ‘নতুন ড্রাগ’ আনার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ ব্যাপারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ‘গ্লোবাল কমিটিকে’ পরামর্শ দেওয়া। 
 
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মারোগী শনাক্তকরণের হার প্রতি লাখে ৮৬ জন। ২০১৭ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২,৪৪,২০১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসার আওতায় এসেছে। চিকিৎসার সফলতার হার শতকরা ৯৫ ভাগ, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে বাকি ৩৩ শতাংশ রোগী এখনও শনাক্তের বাইরে- যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ। 
 
গোলটেবিল বৈঠকে আরও যেসব সুপারিশ উঠে আসে তার মধ্যে সরকারের পাশাপাশি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলোর ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়া, এ সম্পর্কিত আচরণবিধি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে জনসাধারণের মাঝে আরও প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া, মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করা, চিকিৎসার জন্য স্বতন্ত্র এমডিআর হাপাতালের ব্যবস্থা করা, শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণে অধিক মনোযোগী হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বৈঠকে জানানো হয়, যক্ষ্মা নির্মূলে জাতীয় অঙ্গীকারের লক্ষ্যে প্রায় সবদেশের সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণে চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯