রাজধানী | The Daily Ittefaq

নর্থ সাউথ, ইস্ট ওয়েস্ট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২২ ছাত্র ২ দিনের রিমান্ডে

নর্থ সাউথ, ইস্ট ওয়েস্ট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২২ ছাত্র ২ দিনের রিমান্ডে
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০৪:৪১ মিঃ
নর্থ সাউথ, ইস্ট ওয়েস্ট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২২ ছাত্র ২ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ২২ ছাত্রকে গ্রেফতার করে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে সোমবার দিনভর সংঘর্ষের পর রাতেই বাড্ডা ও ভাটারা থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই দুই মামলায় বাড্ডা থানা পুলিশ ১৪ জন ছাত্রকে এবং ভাটারা থানা পুলিশ ৮ জন ছাত্রকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। গ্রেপ্তার আসামিরা ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

 

গতকাল গ্রেফতারকৃতদের আদালতের এজলাসে তোলা হলে স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে নির্যাতন করেছে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বাড্ডা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া রিমান্ড আবেদনে বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, আসামিরা বাড্ডা থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তারা বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান মাসুদ রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামিরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ ও ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ কে এম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতকে বলেন, পুলিশ নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রীদের ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিদওয়ান আহমেদের আইনজীবী কবির হোসেন আদালতকে বলেন, ‘পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে মেরে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে। তৃতীয় পক্ষের যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের ধরে এনেছে।’

 

বাড্ডার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ ছাত্র হলেন, রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্ররা হলেন, আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ৩৪ মামলা : নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত ৯ দিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অপপ্রচার, উস্কানি, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৪টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে।

 

সর্বশেষ রাজধানীর শাহবাগে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। শাহবাগ থানার এসআই রমজান আলী বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯