রাজধানী | The Daily Ittefaq

অভিযানের মধ্যেও শৃঙ্খলা নেই, চালকরা বেপরোয়া

অভিযানের মধ্যেও শৃঙ্খলা নেই, চালকরা বেপরোয়া
ইত্তেফাক রিপোর্ট১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০২:২২ মিঃ
অভিযানের মধ্যেও শৃঙ্খলা নেই, চালকরা বেপরোয়া

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় যানবাহনে শৃঙ্খলা থাকার কথা। অথচ সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপই নেই বাস চালকদের। ঠিক আগের মতোই, কোথাও কোথাও তার চেয়েও বেশি বেপরোয়া বাসের চালকরা। রাস্তার মাঝখানে হঠাত্ দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে, চলাচলেও বেপরোয়া ভাব। এতকিছুর পর তারা তোয়াক্কা করছে না কোন নিয়মনীতির। সার্জেন্টরাও রাস্তায় তল্লাশি করছেন বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের কাগজপত্র। এই অভিযানকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন চালকরা। ফলে নগরীজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ যানজটের। পুরো ঢাকায় যেন সারাটা দিন স্থবির ছিল। মালিকরাও টার্মিনালগুলোতে গিয়ে গণপরিবহনের কাগজপত্র আছে কি-না যাচাই করছেন। তাতে পরিস্থিতি একটুও বদায়লি।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোন গাড়ি রাস্তায় নামানো হচ্ছে না। মালিক সমিতির একাধিক টিম বিভিন্ন টার্মিনালে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখে তবেই বাসগুলোকে রাস্তায় নামার অনুমতি দিচ্ছে। ফলে এখন রাস্তায় যে বাসগুলো চলছে, তার সবগুলোরই বৈধ কাগজপত্র আছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাখালী টার্মিনালে আমাদের প্রতিনিধিরা চেক শুরু করেছে। দুপুরের দিকে শুরু হয়েছে সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানে। যেসব গাড়ির কাগজপত্র নেই সেসব মালিক তা আপডেট করে নিচ্ছেন। বৈধ কাগজ ছাড়া কোন গাড়ি নামছে না।’গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, চালকরা যেভাবে বেপরোয়া, ঠিক পথচারীরাও একইভাবে চলাফেরা করছেন। হুট করেই রাস্তার মধ্যে দৌড় দিচ্ছেন। রাস্তার মাঝখানে হঠাত্ দৌড়ে বাসের সামনে গিয়ে হাত তুলছে। মোটরসাইকেলও চলছে হেলমেট ছাড়া। শিক্ষার্থীদের এত বড় একটা আন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল পথের নৈরাজ্য কিছুটা হলেও কমবে। সংসদ ভবনের সামনে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পথে তো কোনভাবেই বাসের নৈরাজ্য কমেনি বরং বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা আসলে কিছুই শিখতে পারিনি। ওরা যেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এখন সেই কাজটাই হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি? জবাবে তিনি বলেন, সবার সচেতন হতে হবে। শুধু চালকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। পথচারীরাও তো সাবধান হচ্ছেন না।

দুপুরে ফার্মগেট এলাকায় দেখা গেছে, পথের মধ্যেই বাস থামলে বহু মানুষ একসঙ্গে উঠার জন্য বাসের দিকে দৌড়াচ্ছেন। অথচ বাম দিক দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ঢুকে গেছে। পরিস্থিতি এমন যে কেউ যে কোন সময় গাড়ির নিচে পড়তে পারেন। মতিঝিলের একটি অফিসের কর্মচারী শাহনেয়াজ বলছিলেন, বাসের জন্য এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু বাসে উঠতে পারছি না। এদিকে অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে। যেভাবে দৌড় দিলেন তাতে তো গাড়ির নিচে পড়তে পারতেন? জবাবে তিনি বলেন, এসব নিয়ে এখন চিন্তা করার সময় নেই। দ্রুত অফিসে যাওয়া দরকার। তা না হলে স্যাররা বকাঝকা করবেন। অনেক মানুষের এই ভিড়ের মধ্যে ছিলেন দুই-তিন জন নারীও। তারা কেউই ওই বাসে উঠতে পারেননি। তাদের একজন গৃহিণী শাহেলা খাতুন বললেন, জরুরি কাজে বের হয়েছিলেন। এখন পল্টনে গিয়ে মেয়েকে স্কুল থেকে নিতে হবে। তাই একটা বাসে উঠা তার খবুই দরকার। সিএনজি চালকরাও এমন ভাড়া চাচ্ছেন তাতে উঠার উপায় নেই। এ কারণেই মরি-বাঁচি আড়াইটার মধ্যে পল্টনে আমাকে পৌঁছাতে হবে।

পুলিশের অভিযান, মালিকদের চাপ, লাইসেন্স না থাকাসহ নানা কারণে রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা এখন অনেকটাই কম। এই সুযোগে আবারও ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকেরা। যাত্রীরা জানান, অটোরিকশা চালকেরা কদাচিত্ সরকার-নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীদের আনা-নেওয়া করেন। তবে রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো চালুর পরে অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা কমেছিল। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ১০ বা ২০ টাকা দিতে হতো। কখনো-কখনো সেটা ৫০ টাকায় ঠেকত। কিন্তু শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে রাস্তায় গণপরিবহন কমে যায়। এরপর আবার পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্মঘট শুরু করেন। এসবের মধ্যেই গত  রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। এসবের কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করছেন না সিএনজি অটোরিকশা চালকরা।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে মালিকদের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। দুপুরে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে গাড়ির কাগজপত্র চেক করতে দেখা যায়। এছাড়া মহাখালী ও গুলিস্তানেও অভিযান চলেছে। বেলা ১২টা থেকে সায়েদাবাদ টার্মিনালে চার শতাধিক পরিবহনের কাগজপত্র চেক করা হয়েছে। ৩০/৪০টির মতো গাড়িতে কাগজপত্র আপডেট পাওয়া যায়নি। বাকি গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও শ্রমিক কমিটির নেতা রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই কাজ শুরু করি। দুপুর পর্যন্ত ৪০০ গাড়ি চেক করেছি। এরমধ্যে অধিকাংশের কাগজপত্র ঠিক আছে। আর যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই সেগুলো বের হচ্ছে না।’

৫ কোম্পানির মালিক সমিতির নিবন্ধন বাতিল

রাজধানীতে চুক্তিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে পাঁচটি পরিবহন কোম্পানির নিবন্ধন গতকাল বাতিল করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। নিবন্ধন বাতিল করা পরিবহন কোম্পানিগুলো হলো- আজমেরী পরিবহন, সুপ্রভাত পরিবহন, স্কাই লাইন পরিবহন, ডিএমকে পরিবহন ও গাবতলী-সদরঘাট (সাত নম্বর রোড) পরিবহন। ঢাকায় এসব কোম্পানির ৫ শতাধিক বাস ও মিনিবাস চলাচল করে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ইত্তেফাককে বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, এসব কোম্পানি মালিকের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে চালক চুক্তিতে চালাচ্ছে। এ জন্য সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তিনি জানান, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া, মিরপুর-পল্লবী ও মহাখালী এলাকায় মালিক-শ্রমিকদের চারটি টিম পাহারা দিচ্ছে। যেসব পরিবহন চুক্তিতে গাড়ি চালাচ্ছে এবং ফিটনেস সনদ নেই, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে গতকাল থেকে চালকদের সঙ্গে চুক্তিতে গাড়ি না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। ফিটনেসবিহীন গাড়িও না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এ সিদ্ধান্ত অমান্য করা হলে সমিতির সদস্যপদ বাতিল করার কথাও জানান এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, ঢাকায় শিগগিরই সিটিং সার্ভিস সেবাও চালু হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮