রাজধানী | The Daily Ittefaq

পেট্রোবাংলার ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, আজ হাজির হবেন ৯ জন

পেট্রোবাংলার ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, আজ হাজির হবেন ৯ জন
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০২:১৭ মিঃ
পেট্রোবাংলার ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, আজ হাজির হবেন ৯ জন
বড়পুকুরিয়া খনির কোল ইয়ার্ড থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ নিয়ে এ মামলা তদন্তে ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলো দুদক। উল্লেখ্য, মামলা তদন্তে গত ১৩ আগস্ট ৩২ জনকে তলব করে চিঠি দেয় দুদক। তাদের ২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা জানানো হয়।
 
গতকাল যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তারা হলেন- কয়লা খনির সদ্য সাবেক এমডি হাবিব উদ্দিন আহমদ, কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) জাহিদুল ইসলাম ও উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক।
 
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের নোটিসের প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে পেট্রোবাংলার এ আট কর্মকর্তা দুদক কার্যলয়ে উপস্থিত হন। পরে সাড়ে ১০টা থেকে দুদকের অনুসন্ধান টিমের তদারকি কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে উপ-পরিচালক শামসুল আলম ও দুই সদস্য সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন এবং সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদক সূত্র জানায়, এই মামলার তদন্তে গত মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নূরুজ্জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম খালেদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মোরশেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অপারেশন) জোবায়ের আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া গত ১৬ আগস্ট খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড কন্টাক্ট ম্যানেজমেন্ট) মো. নাজমুল হক, ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. শোয়েবুর রহমান, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. সাইদ মাসুদ, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মাহাবুব হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. মাহাবুব রশিদ ও ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. দিদারুল কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
 
দুদক সূত্র আরো জানায়, আজ বৃহস্পতিবার আরো ৯ জনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা হলেন, খনির উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) মো. খলিলুর রহমান, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি ও গোপাল চন্দ্র সাহা, ব্যবস্থাপক (হিসাব) সারোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপক (সেলস ও রেভিনিউ কালেকশন) মো. কামরুল হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসেস) মোহাম্মদ নোমান প্রধানীয়া, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ কে এম সিরাজুল ইসলাম ও শরিফুল আলম এবং সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) আল আমিন।
 
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বড় পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্পাদন এবং সরবরাহের হিসাবের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ২০০৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৯শে জুলাই পর্যন্ত কাগজে কলমে এই ফারাক ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬শ’ ৪৪ টন। অর্থাত্ গত ১৩ বছর ধরে খনি থেকে এ পরিমাণ কয়লা চুরি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০৩ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র চুরি করে খোলাবাজারে এসব কয়লা বিক্রি করে দিয়েছে। এসব অভিযোগে কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৪ জুলাই দিবাগত রাত ১০টার দিকে খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিছুর রহমান বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন আইনের ৫ (২) ও ৪০৯ ধারায় পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০