রাজধানী | The Daily Ittefaq

কোনো অভিযোগ নাই, শুধু স্বজনদের ফিরিয়ে দিন

কোনো অভিযোগ নাই, শুধু স্বজনদের ফিরিয়ে দিন
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০২:৪১ মিঃ
কোনো অভিযোগ নাই, শুধু স্বজনদের ফিরিয়ে দিন

বাবার জন্য সন্তান কাঁদছে, সন্তানের জন্য কাঁদছে মা। স্বামীর জন্য স্ত্রী কাঁদছে, ভাইয়ের জন্য ভাই। কারো আপনজন কয়েক বছর আগে, কারো বা হারিয়েছে কয়েক মাস হলো। নিখোঁজ মানুষগুলোর জন্য পরিবারের সদস্যদের শুধু কান্না আর কান্না। এ ছাড়া আর যেনো কোনো উপায় নেই তাদের। কাঁদতে কাঁদতে তারা বলছেন, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো মানবতার মা। আপনি কি আমাদের কান্না শুনতে পান না? আমাদের কারও প্রতি কোনো অনুযোগ, অভিযোগ নাই। শুধু আমাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দিন।’ গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পেতে সরকারের কাছে এ ভাবেই আকুতি জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।  গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ শীর্ষক ব্যানারে প্রতিবাদী সমাবেশে স্বজনরা এই আর্তি জানান। গুম হওয়া সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা বড় কষ্টের। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা আরও কষ্টের। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, আমার ভাইকে ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নিন।’

গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘মায়ের সন্তান ফিরে আসুক মায়ের কোলে। গুম হওয়া সব সন্তানদের তাদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন। আমাদের কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। শুধু চাই সন্তান ফিরে আসুক। সন্তান ফিরে আসবে এই আশায় পথ চেয়ে বসে আছি।’

‘সরকার বুঝে শুনেই গুম করছে মানুষ’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘ভুল করে গুম করা হয়নি। জেনে শুনেই গুম করা হয়েছে। স্বজনহারা মানুষের কান্না       কী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে যায় না? অবশ্যই যায়। মানুষ গুম হচ্ছে এটিও সরকার জানে। তবুও তারা কিছু করেন না। সরকার বুঝে শুনেই গুম করছে মানুষ। এই মানুষেরা রাজনৈতিক কারণেই গুমের শিকার হয়েছে। তাই তাদের খুঁজে বের করতে সরকার উদাসীন। রাজনীতিতে গুমের চাষ জিইয়ে রাখা হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেমের কারণে মানুষ গুম হয়ে যায়, ব্যবসায় বিফল হয়ে গুম হয়ে যায় তা হলে স্বজনহারাদের পরিবার মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নেওয়া হয় না কেন? গুমের সাথে রাষ্ট্র সম্পৃক্ত না থাকলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হত। দেশে এমন পরিস্থিতি যে কখন কাকে তুলে নেওয়া হবে কেউ বলতে পারে না।’

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘গুমের অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে সরকারের বাহিনী জড়িত। গুমসহ নানা ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে ট্রাইবুনাল করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এমন একটি দেশে বাস করছি যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন প্রেমের কারণে কোথাও চলে যাচ্ছে। যদি চলে যেয়েই থাকে ধরে এনে বিচার করেন। আর না হলে পদত্যাগ করেন। এখন যে ব্যবস্থা চলছে এটা একটি লাগামহীন ব্যবস্থা, এই ব্যবস্থা দূর করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯