রাজধানী | The Daily Ittefaq

যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের পাসপোর্ট কিন্তু বঙ্গবন্ধুরই দেওয়া : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের পাসপোর্ট কিন্তু বঙ্গবন্ধুরই দেওয়া : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০২:৪৩ মিঃ
যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের পাসপোর্ট কিন্তু বঙ্গবন্ধুরই দেওয়া : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশ স্বাধীনের পর পন্ডিত বা সুধী সমাজের কেউ কেউ তখন বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতেন। বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছিলেন- ‘আমি মারা যাবার পর তোরা হয়তো বলবি আমি ভালো প্রশাসক ছিলাম না। কিন্তু তোদেরকে একটি পাসপোর্ট দিয়ে গেলাম, এটা তো অস্বীকার করতে পারবি না।’ সেজন্য বলবো, আজও যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের হাতেও কিন্তু এই স্বাধীন বাংলাদেশরই পাসপোর্ট, যারা বিদেশে অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় নিচ্ছেন তাদের হাতেও কিন্তু ওই বঙ্গবন্ধুরই দিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট। কাজেই যারা বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করেন না কিংবা তার সমালোচনা করেন-তারাও কিন্তু এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবেন না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে বাপাউবো কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন-এরকম কোনো জাতীয়তাবাদী নেতাকেই ’৬০ থেকে ’৭০ বা ’৮০ দশকের ওইসময়ে পৃথিবীতে টিকে থাকতে দেওয়া হয়নি। যার কারণে বঙ্গবন্ধু, ভুট্টো ও ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই শক্তি আজও আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখতে চায়। ওই শক্তির বিরুদ্ধে আজও আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। যেই সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ঠ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আমরাও চেষ্টা করছি এই সংগ্রামে ক্ষুদ্র অবদান রাখার জন্য।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সেইভাবে অর্জিত হয়নি। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে, ৩০ লাখ শহীদ ও কোটি মানুষের নির্যাতন-অত্যাচারের শিকার হওয়ার বিনিময়ে। একথা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই। দেশটা স্বাধীন না হলে আমরা সবাই আজ যে যেই অবস্থানে আছি সেখানে থাকা সম্ভব হতো না। দেশের প্রতিটি প্রান্তের সঙ্গে রাজধানীর এই সংযোগ স্থাপনও সম্ভব হতো না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। স্বাধীনতার আগের রাজনীতি ছিল ভাঙার, আমরাই রাস্তায় ভাঙচুর করেছি, আন্দোলন করেছি। এখন আমাদের গড়তে হবে। এই গড়ার দায়িত্ব ১৭ কোটি মানুষের। দেশের উন্নয়ন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তরুণ সমাজকে আরও বৃহত্ স্বপ্ন দেখাতে হবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, একজন মহামানবের আগমনে এই দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারাই বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। পোড়া মাটির দেশটাকে বঙ্গবন্ধু যখন গড়ছিলেন তখনই ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। অনেকে বলেন ভাগ্যের কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বেঁচে গেছেন। আমি বলি-না, দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য স্বয়ং আল্লাহ-ই তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে আত্মপরিচয় ও একটি জাতিরাষ্ট্র দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর দেশ কীভাবে সামনে পরিচালিত হবে-চার মূলনীতির মাধ্যমে সেই দিকনির্দেশনাও দিয়ে গেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মানে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে হত্যা করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি।

আলোচনা সভার ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাপাউবো শাখার সভাপতি বাপাউবো’র মহাপরিচালক  মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করে থাকি তাহলে কাজেও সেটা প্রমাণ করতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু নিজের জন্য আন্দোলন করেননি, জেল খাটেননি, জীবন দেননি। এই জাতির জন্য, আমাদের জন্যই তিনি তার জীবন দিয়ে গেছেন।

আলোচনার শুরুতে ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাপাউবো শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মাইনুর রহমান।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭