রাজধানী | The Daily Ittefaq

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা মীজানুর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২ মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা মীজানুর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২ মামলা
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০২:৪৮ মিঃ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা মীজানুর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২ মামলা
ঢাকার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সেস (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট মীজানুর রহমান ও তার স্ত্রী সালমা আক্তার নীপা মিজানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও মডেল থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ মামলা দুইটি করেন। এর মধ্যে প্রথম মামলাটিতে কমান্ড্যান্ট মীজানুর রহমানের নামে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী নীপা মিজানের নামে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
 
মামলার এজাহারে বলা হয়, মীজানুর রহমান ১৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পুলিশে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় কর্মরত আছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে এই সময়ে তিনি নিজ নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার বাড়িসহ ১৩.০৮ একর জমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুট ও ১৭১৮ বর্গফুটের দুইটি ফ্ল্যাট, ঢাকার জুড়াইনে একটি দোকান, মিরপুরসহ বিভিন্ন মৌজার ৩ দাগে ১৫ শতাংশ জমি, উত্তরায় ৩ কাঠার আরেকটি প্লটের কাঠা জমি , দুইটি মাইক্রোবাস, আসবাবপত্র, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ইলেক্ট্রনিক্স, মেয়ের নামে শেয়ার, হাতে ও নগদে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার নামে ব্যাংকে ৯১ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টাকা নগদ ও ৭৫ লাখ টাকার এফডিআর, মোল্লা এনপিকেএস লিমিটেড সার কারখানার নামে ২ লাখ টাকার শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরেও মেঘনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার, ফার্ম নেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস লিমিটেড ও একটি মাইক্রোবাসের মালিকানার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রুপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উেসর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধ বলে দুদক তথ্য প্রমান পেয়েছে।
 
অপর মামলার এজহারে তার স্ত্রীর ব্যাপারে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, সালমা আক্তার নীপা’র সঙ্গে ২০০৩ সালে মীজানুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানার মালিক হন। এছাড়া তিনি ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে তিন তলা ভবনসহ ৫ কাঠার জমি, ২ কাঠা জমিতে দোকান, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২ তলা বাড়িসহ ১০ শতাংশ জমি ও ৬৬ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫.৩৮ একর জমি এবং ব্যবসায়িক মূলধন ও নগদ অর্থসহ মোট ৭ কোটি ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধ বলে দুদক তথ্য প্রমান পেয়েছে।
 
দুদক সূত্র জানায়, এর আগে ২০১১ সালে এসপি মিজানের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তত্কালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর নামে ব্যবসা পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে মামলা রুজুর সুপারিশ করলেও মামলা না করে অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়ে যায়।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬