ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাবদ বাধ্যতামূলক বেআইনি অর্থ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।
সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের সময় ওই অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দুদক জানায়, দুদকের হটলাইনে (১০৬) ভুক্তভোগী অভিভাবকরা অভিযোগ জানালে মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী তাৎক্ষণিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক নার্গিস সুলতানা ও উপসহকারী পরিচালক মো. সবুজ হাসানের সমন্বিত টিম সোমবার মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযান চালায়।
দুদকের অভিযানে দেখা যায়, অভিভাবকদের কাছ থেকে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান হামিদা বাধ্যতামূলকভাবে বিনা রশিদে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এমনকি হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সন্তানদেরও বিনামূল্যে ভর্তি করানো হয়নি, বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ভর্তি বাবদ প্রধান শিক্ষক এ যাবত এভাবে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ সব টাকার কোন আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষক দুদক টিমের কাছে অবৈধ অর্থ আদায়ের ঘটনা স্বীকার করেন।
এ ঘটনা উদঘাটন হবার পরপরই মহাপরিচালক (প্রশাসন) বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এর পরই প্রধান শিক্ষক নুরজাহান হামিদাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, দুদক শিক্ষা সেক্টরে দুর্নীতির শেকড় উৎপাটনে কঠোর অভিযান চালাবে। তবে এ সব দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও প্রতিরোধমূলক মানসিকতা থাকতে হবে। শিগগিরই বেআইনিভাবে আদায়কৃত অর্থ অভিভাবকদের কাছে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বায়ুদূষণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ইত্তেফাক/এমআই

