ভিকারুননিসার ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে মা বিউটি অধিকারীর বাঁধ ভাঙ্গা কান্না। ইনসেটে অরিত্রী -সুজন মন্ডল

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ মঙ্গলবার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মো. ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।

 

অন্যদিকে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস জানান, তাদের গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আতাউর রহমান। এই কমিটির অন্য দুইজন সদস্য হলেন অভিভাবক প্রতিনিধি তিন্না খুরশীদ জাহান ও শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম।

 

কমিটি গঠনের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকরা মিছিল করছেন, বিষয়টি জটিল হয়ে গেলো, আমি সেখানে যাচ্ছি। গতকাল শুনেই আমি যথাসম্ভব তথ্য নিয়েছি। এরপর আইন-শৃঙ্খলা  বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাদের বলেছি, আপনারা আইনগত দিকটা দেখেন, কারণ এরমধ্যে ক্রিমিন্যাল ব্যাপার আছে একটা। আর আমরা আমাদের বিষয়টা দেখব।

 

কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

 

এর আগে সোমবার দুপুরের দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে অরিত্রী অধিকারী (১৫) নামে ভিকারুননিসার এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেন। অরিতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

আরো পড়ুন:  রাস্তা পাকাকরণে বালুর বদলে মাটি!

অরিতীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিতীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রবিবার পরীক্ষা দেয়ার সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের স্কুলে যেতে বলে। স্কুলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তার মেয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইলের মাধ্যমে নকল করছিল। তাই তাকে টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর শোনার পর স্কুল থেকে অরিতী বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।

 

দিলীপ অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে অপমান করেছে এবং জানিয়ে অরিতী পরীক্ষা দিতে পারবে না। এ মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করেছে।

 

ইত্তেফাক/এএম