ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
২৪ °সে

বাংলামোটরে ‘জিম্মি’ নাটকের অবসান, ছেলের লাশসহ বাবা আটক

বাংলামোটরে ‘জিম্মি’ নাটকের অবসান, ছেলের লাশসহ বাবা আটক
আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নুরুজ্জামান কাজলকে। ছবি: ফোকাস বাংলা

ছেলের লাশ ও চার বছরের একটি ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বাংলামোটরে ‘জিম্মি’ নাটকের অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মাদকাসক্ত বাবাকেও আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম নূর সাফায়েত। আর আটক বাবার নাম নুরুজ্জামান কাজল।

সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খবর পায়, কাজল নামের মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তি তার ছোট ছেলেকে হত্যা করেছে। আরেক ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে ‘জিম্মি’ করে ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ খবরের সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন।

রামদা নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসেন কাজল। ছবি: ফোকাস বাংলা

র‌্যাব ২- এর এসআই শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি-শিশুটির বাবা বসে আছেন। তার সামনে শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। তার পাশে বসে আছেন একজন হুজুর। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় রামদা নিয়ে বসে আছেন শিশুটির বাবা।

আরো পড়ুন: ​ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, এমপিও বাতিল

নুরুজ্জামান কাজলের ভাই উজ্জ্বল সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে কাজল স্থানীয় এক মাদ্রাসায় গিয়ে বলেন, তার ছোট ছেলে সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। তার ছেলের মৃত্যুসংবাদ মাইকে ঘোষণা করতে অনুরোধ করেন। আর কোরআন খতমের জন্য মাদ্রাসা থেকে কাওকে বাসায় পাঠাতে বলেন। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন মাদ্রাসা খাদেম ওই বাসায় কোরআন খতমের জন্য যান। এক পর্যায়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে এসে কলাপসিবল গেইট আটকে দেন কাজল।

এসময় শিশুটির বাবার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। বেলা ১টার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ছেলেকে দাফন করব।

পরে পুলিশ কলাপসিবল গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে কাজলকে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকে। তাকে বলা হয়, জোহারের নামাজের সময় হয়ে গেছে। সাফায়েতের জানাজা পড়াতে হবে। এসময় কাজল সিঁড়ির কাছে নেমে এলে পুলিশ তাকে ধরে ফেলেন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সুরায়েতকে সরিয়ে নেন।

শিশুর লাশ হাতে এলাকাবাসী। ছবি: ফোকাস বাংলা

কাজলের ভাই উজ্জ্বল বলেন, সে (কাজল) সারাদিন নেশা করে। কাজলের মার খেয়ে ওর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন। এত দিন আমরা সহ্য করেছি। শুধু বাচ্চাগুলোর কারণে। এখন বাচ্চাটাকেই মেরে ফেলছে সে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এহসানুল ফেরদৌস বলেন, নিহত ছেলেটাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বাবা বলছেন, বৈদ্যুতিক শকে নাকি তার ছোট ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন