![]() |
![]()
![]()
![]()
|
মার্চ ২৩, ২০১১, বুধবার : ৯ চৈত্র, ১৪১৭
আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০
|
গাদ্দাফিকে যেতেই হবে :ওবামা
মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস ০০নরওয়ে কানাডা ডেনমার্ক বেলজিয়াম হামলায় অংশ নিল ০০অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি চীন রাশিয়ার ০০ইত্তেফাক ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতা ছেড়ে যেতেই হবে। সবার ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও অপরাপর বিদেশী শক্তিগুলো লিবিয়ায় কেবলমাত্র নো-ফ্লাই জেন কার্যকর করতে যাচ্ছে। কিন্তু ওবামা জানিয়ে দিয়েছেন, লিবিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হচ্ছে, সেদেশের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচু্যত করা। তবে এই কাজে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না তার দেশ। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, লিবিয়ায় সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ম্যান্ডেট মেনে চলবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান লিবিয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে লিবিয়ায় হামলার আবারও তীব্র বিরোধীতা করেছে চীন ও রাশিয়া। অবিলম্বে লিবিয়ায় হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে দেশদুটি। তবে নতুন করে কয়েকটি দেশ হামলায় অংশ নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে নরওয়ে, কানাডা, ডেনমার্ক ও বেলজিয়াম। সোমবার রাতে ও গতকাল মঙ্গলবারও একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বক্তব্য পরিস্কার করলেন ওবামা ঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট অনুযায়ী আমরা লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। কর্নেল গাদ্দাফি তার জনগণের প্রতি হুমকি। তিনি আরো বলেন, লিবিয়ার আকাশে বিমান উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের অংশ হিসেবে অংশীদারদের সঙ্গে ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছেন। ল্যাটিন আমেরিকা সফরে চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরার সঙ্গে সান্টিয়াগোতে ওবামা এসব কথা বলেন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, লিবিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হচ্ছে, গাদ্দাফিকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ঃ লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ উচ্চগতির জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি ঘন্টায় ৩০০০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। তবে বিমানের ২ জন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিমান হামলার তৃতীয় রাতে এ ঘটনা ঘটে। ফের বোমা হামলা ঃ এদিকে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির ত্রিপোলির কম্পাউন্ড দ্বিতীয় রাতের মতো বেশ কয়েক দফা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এছাড়া গাদ্দাফির দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তিশালী ঘাঁটি ও একটি নৌঘাঁটি লক্ষ ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। সোমবার অন্ধকার নেমে আসার পরপরই রাজধানী ত্রিপোলিতে হামলা চালানো শুরু হয়। গাদ্দাফির বাসভবনের কাছে রাতের আকাশে কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গতকালও হামলা চলে। প্রত্যদশর্ীরা জানান, রাজধানীর প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত লিবিয়ার নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতেও বোমাবর্ষণ করা হয়। কোয়ালিশন বাহিনীর বিমান লিবিয়ার দণিাঞ্চলীয় সাবহা, বেনগাজিতে শহরে হামলা চালায়। তবে এ বিমান হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে জানান যায়নি। পশ্চিমাদের মধ্যেই বিভাজন ঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, গাদ্দাফি তাদের প্রধান টার্গেট। কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলেছেন তার দেশের প্রতিরক্ষা প্রধান ডেভিড রিচার্ডস। তিনি বলেছেন, গাদ্দাফি কোনোভাবেই আমাদের মূল টার্গেট নয়। অপরদিকে পেন্টাগণও বলেছে গাদ্দাফির পতন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য নয়। কিন্ত বারাক ওবামা বলেছেন ভিন্ন কথা। এভাবে গাদ্দাফির বিষয়ে বহুজাতিক বাহিনীর নেতাদের একজনের কথার সঙ্গে অন্যজনের মন্তব্যের অনেক অমিল দেখা যাচ্ছে। স্বাগত জানাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ঃ গতকাল মার্কিন সেনারা গুলি করে লিবিয়ার ৬ গ্রামবাসীকে আহত করেছে। বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানের পাইলটরা প্যারাসুটের সহায়তায় মাটিতে নামার পর গ্রামবাসীরা তাদের স্বাগত জানাতে যায়। কিন্তু পাইলটদের উদ্ধার করতে আসা মার্কিন সেনারা গ্রামবাসীদের গাদ্দাফির লোক মনে করে হেলিকপ্টার থেকে ছয়জনকে গুলি করে। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মার্কিন এয়ারফোর্স এফ-১৫ই ঈগল বিমানটি ইটালির এভিয়ানো ঘাটি থেকে উড়ে এসে বেনগাজির ২৪ মাইল পূর্বে বিধ্বস্ত হয়।
|
| The Daily Ittefaq - Established: 24th December, 1953. Privacy Policy | Feedback | Contact Us ![]() |
||
![]() |
||








