আদালত | The Daily Ittefaq

ভিডিও কনফারেন্স চালু হলে সন্ত্রাসীদের আদালতে আনতে হবে না: প্রধান বিচারপতি

ভিডিও কনফারেন্স চালু হলে সন্ত্রাসীদের আদালতে আনতে হবে না: প্রধান বিচারপতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং ২১:১৫ মিঃ
ভিডিও কনফারেন্স চালু হলে সন্ত্রাসীদের আদালতে আনতে হবে না: প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশনের পথ প্রশস্ত হলে ঘরে বসেই একজন সাধারন নাগরিক যেমন তার মামলার ফলাফল জানতে পারবে তেমনি বিশ্বের যে কোন প্রান্ত হতে মামলা দায়ের করা সম্ভব হবে।
 
কিন্তু বাজেটের অপ্রতুলতার কারণে বিচার বিভাগের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, এরপরেও সুপ্রিম কোর্ট ও নিন্ম আদালতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মানবৃদ্ধি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ এখন তাদের মামলার তথ্য ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপস ও এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারছে।
 
রবিবার সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এই স্মারক সাক্ষর অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন মামলায় এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খুবই অসুবিধা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীকে জেল থেকে আদালতে নেওয়ার সময় মাঝপথে সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এগুলো অতিক্রম করতে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনা করতে চাচ্ছি। যাতে এই ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সরাসরি আদালতে হাজির না করতে হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যত কার্যক্রম হচ্ছে, সেখান থেকে যদি একটু হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সন্ত্রাসীদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নেওয়া এবং জেল থেকে কোর্টে নেওয়া আমরা মিনিমাইজ করতে পারবো।  এতে বিচার খুব ত্বরান্বিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে বিচার বিভাগ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা অর্থ রাষ্ট্রের অন্য কোন অঙ্গের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা। কিন্তু শত বছরের পুরাতন আইন ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিচারকার্য পরিচালনার করায় এখন প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মামলা জটে আবদ্ধ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ।  অথচ মাত্র ১৬০০ বিচারক সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালন করছে।
 
দ্রুত মান সম্মত সেবা দিতে বিচার বিভাগে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সর্বশেষ সুবিধাগুলো ব্যবহার করে নাগরিকদের কাছে তাদের পছন্দের ডিভাইসে মামলার তথ্য পাঠানোর কাজটিও নিশ্চিত করা কঠিন কাজ হবে না।
 
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে রেজিস্টার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই প্রোগ্রামে সহযোগিতা করছেন ইউএনডিপি ও ইউএস আইডি নামক দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১