আদালত | The Daily Ittefaq

শিশু আইনে অস্পষ্টতা দূরীকরণ : হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন দুই সচিব

শিশু আইনে অস্পষ্টতা দূরীকরণ : হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন দুই সচিব
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ১৯:১৯ মিঃ
শিশু আইনে অস্পষ্টতা দূরীকরণ : হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন দুই সচিব
তলব আদেশে রবিবার হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন সরকারের দুই সচিব। তাদের উপস্থিতিতে আদালত বলেছেন, অস্পষ্টতা নিরসনে শিশু আইনে কেন সংশোধনী আনা হচ্ছে না? এই সংশোধনী না করার ফলে শিশু আদালতে প্রাপ্ত বয়ষ্কদের বিচার হচ্ছে। অথচ মামলার ভিকটিম হচ্ছে শিশু। আমাদের প্রত্যাশা সরকার শিশু আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেবে। 
 
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই মন্তব্য করেন। এ পর্যায়ে সচিবগণ বলেন, শিশু আইনের ১৭ নম্বর ধারাটিতে অসঙ্গতি রয়েছে। এটা দূর করার লক্ষ্যে আইনটি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপরই আদালত আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিশু আইনে সংশোধনী আনতে সরকারকে সময় দেন। 
 
আদালত বলেন, নতুন কোনো বিশেষ আইন হলে সে আইনের মামলা বিচারের আগে বিচারক, তদন্ত কর্মকর্তা, পিপিসহ সকলের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আদালত বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে দায়েরকৃত কিছু মামলা দুদক, কিছু মামলা পুলিশ আবার কিছু মামলা বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট তদন্ত করে। ফলে এ নিয়ে ইতমধ্যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এরকম আরো অনেক মামলা আসছে আদালতে। এই জটিলতার কারণে বড় বড় অর্থ পাঁচার মামলার বিচার হবে না। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন মাহবুবে আলম বলেন, বিত্তশালীরা বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করে নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য।  
 
অস্পষ্টতা নিরসনে শিশু আইন সংশোধনে সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমানকে গত ২৯ অক্টোবর তলবের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই তলব আদেশে রবিবার বিকালে তারা আদালতে হাজির হন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা দেখছি, শুধুই চিঠি চালাচালি হচ্ছে। কিন্তু কেন আইনটি সংশোধন হচ্ছে না? 
 
এ পর্যায়ে সচিব শহিদুল হক বলেন, আইনের ১৭ নম্বর ধারাটিতে সমস্যা। এই ধারাটি আরো স্পষ্ট হওয়া দরকার। তিনি বলেন, সারাদেশে আরও ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কাজ চলছে। এসব ট্রাইব্যুনালে শিশুদের মামলা পাঠানোর আদেশ দিতে পারে আদালত। এছাড়া কোন মামলা কোন পর্যায়ে কোন আদালতে যাবে তার একটা নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। 
আদালত বলেন, আইন কিভাবে সংশোধন হবে সেটি বলা আমাদের কাজ নয়। আইন প্রণেতাদের ভূমিকায় আমরা যেতে পারি না। শহিদুল হক বলেন, আইন সংশোধনের জন্য ২ মাস সময় দরকার। 
 
সমাজকল্যাণ সচিব বলেন, আইনটি সংশোধনের একটি খসড়া ভেটিংয়ের জন্য গত ৭মে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি এখনো ফেরত আসেনি। ফেরত আসার পর সাতদিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করতে পারবো। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কোনো অপরাধী যদি শিশু হয় তাহলে তার মামলা শিশু আদালতে বিচারের জন্য পাঠাতে পারেন। এরপর আদালত আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন আইনটি সংশোধনের। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০