আদালত | The Daily Ittefaq

বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালা আজ আদালতে উঠছে

বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালা আজ আদালতে উঠছে
সংবিধানের বৈধ প্রক্রিয়ায় এই বিধিমালা জারি হয়নি :ব্যারিস্টার আমীর কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়নি :আইনমন্ত্রী আনিসুল সুপ্রিম কোর্টের উপর আইন মন্ত্রণালয়কে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে :বার সভাপতি জয়নুল
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ০৯:৪৭ মিঃ
বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালা আজ আদালতে উঠছে
 
সাংবিধানিকভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি জারি হয়নি বলে দাবি করেছেন দেশের সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিধিমালা জারি হয়নি। এটি জারি হয়েছে ১৩৩ অনুচ্ছেদের আলোকে। ওই অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধির শর্তাবলী রয়েছে। ১১৬ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা রয়েছে নিম্ন আদালতের যাবতীয় কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রপতি করবেন সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু এই বিধিমালায় আইন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে আসা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আইন মন্ত্রণালয়কে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি ও আইন মন্ত্রণালয়কে। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আইন মন্ত্রণালয় পালন করতে পারে না। রাষ্ট্রপতির নামে সবকিছুই আইন মন্ত্রণালয় করবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন, কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়নি। রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে পরামর্শের ভিন্নতা হলে সুপ্রিম কোর্টের মতামতই প্রাধান্য পাবে। এদিকে আজ বুধবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার জারিকৃত গেজেট আদালতে উপস্থাপন করা হবে।            সোমবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে সরকার। বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে গত তিন বছর ধরে টানাপোড়নের পর এই বিধিমালা জারি করা হয়। জারিকৃত বিধিমালায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের এবং ‘নিয়োগকারী’ কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতিকে করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এবং আইন মন্ত্রণালয়কে নিম্ন আদালতের বিচারকদের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবেও নির্ধারণ করা হয়েছে। জারিকৃত বিধিমালা নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও মাসদার হোসেন মামলার আইনজীবীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
 
এরই ধারাবাহিকতায় মাসদার হোসেন মামলার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেন, আমাদের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে ‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল- নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংখলাবিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে।’ এর সারমর্ম হলো নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যাযা করবেন সবই হবে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়কে টেনে আনার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও এ সংক্রান্ত নথি যাবে না। যেমন ধরুন ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন। এটা কিন্তু একটা ব্যতিক্রম। এর মানে এই না সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে এই পরামর্শে ‘কালেক্টিভ উইল’ থাকতে হবে। অর্থাত্ সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে বারের সঙ্গেও পরামর্শ করবে। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি অন্যান্য বিচারপতির মতামত গ্রহণ করবেন। অর্থাত্ সর্বসম্মত মতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ যাবে। 
 
তিনি বলেন, এই বিধিমালাটি সংবিধানের যে প্রক্রিয়া তার মধ্যে হয়নি। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদের অধীনেই বিধিমালাটি করার কথা। অর্থাত্ সংবিধান যে ক্ষমতাটা রাষ্ট্রপতির উপর অর্পণ করেছে এবং রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে সে রুলস তৈরি করবেন; কিন্তু মন্ত্রণালয় ১৩৩ অনুচ্ছেদের বয়ান দিয়ে যে রেফারেন্স দিচ্ছেন, অর্থাত্ গোড়াতেই গলদ রয়ে গেছে। বিষয়টা নিশ্চয়ই আদালতের নোটিসে আসবে এবং আমি মনে করি- এটা সংশোধন করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আইন মন্ত্রণালয় পালন করতে পারে না। আমরা যখন সংবিধান তৈরি করেছিলাম তখন বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের বিষয়টাতে প্রধান্য দিয়েছিলাম এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে। এজন্য অধস্তন আদালতের উপরে ১১৪, ১১৫, ১১৬ পরিচ্ছেদ আমরা দিয়েছিলাম। অর্থাত্ অধস্তন আদালত কিন্তু আমাদের সংবিধানের একটি প্রতিষ্ঠান। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা যেতে পারে। এখন তাদের যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিধি-বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি মাসদার হোসেন মামলার পরিপন্থি। আইনমন্ত্রীর ভূমিকা দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রতিস্থাপন করা যায় না; কিন্তু এটি করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বৈশিষ্ট্য, পৃথকীকরণ খর্ব করা হয়েছে।
 
ব্যারিস্টার আমীর বলেন, এ বিষয়গুলো অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হবে। আমি ইতোমধ্যেই দুই-তিন দিন কোর্টকে বলেছি। ভেতরে ভেতরে কি আলোচনা হচ্ছে কেউই জানতে পারছি না। আমি উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। কার সাথে কি আলোচনা হচ্ছে, আইনমন্ত্রীর সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। এখানে রাষ্ট্রপতিও অনুপস্থিত প্রধান বিচারপতিও অনুপস্থিত। প্রধান বিচারপতি সবসময়ই থাকতে হবে। ভারপ্রাপ্ত হয় যখন প্রধান বিচারপতি অসুস্থ হন বা কাজ পরিচালনা করতে পারছেন না তখন।
 
তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন, এই বিধি প্রণয়নের মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা আরো বেড়েছে। তবে ‘না বুঝে’ অনেকেই এই বিধিমালার সমালোচনা করছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে শিরোধার্য মনে করে এই বিধিমালা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে এবং আপিল বিভাগের সকল বিচারপতির সঙ্গে বসেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাসদার হোসেন মামলার যে ১২টি নির্দেশনা ছিল তার সাত নম্বর নির্দেশনায় যা ছিল সেটাকেও এটার মধ্যে গ্রহণ করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই শৃঙ্খলা বিধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা সিভিল সার্ভিসে আছেন তাদেরও কিন্তু একটা আচরণ বিধি আছে। জুডিসিয়াল সার্ভিস ও সিভিল সার্ভিসের আচরণ বিধির মধ্যে যদি আকাশ-পাতাল পার্থক্য হয় সেটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিচার বিভাগের জন্য যেখানে বিশেষ বিধান রাখা দরকার সেখানে তা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যখন জুডিশিয়ারির ব্যাপারে কোনো কাজ করেন, তিনি আইন মন্ত্রণালয়কে তার সেক্রেটারিয়েট হিসেবে ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির কাছে নথি চালাচালির জন্য একটা অফিস হিসেবে ব্যবহূত হয়।
 
সাবেক প্রধান বিচারপতি শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়নে কিভাবে বাধা দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনী ছিলো সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদকে নিয়ে। এই ষোড়শ সংশোধনীর আর্গুমেন্টের সময় ৯৬ অনুচ্ছেদের উপরই কিন্তু আর্গুমেন্ট হয়েছিলো। ১১৬ অনুচ্ছেদের ইস্যু ছিল না; কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি তার জাজমেন্টের মধ্যে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধান পরিপন্থি করে দিয়েছেন। এটি থেকেই বুঝতে হবে সাবেক প্রধান বিচারপতি কিভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
 
তিনি বলেন, সরকার সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে। সরকার এখন পর্যন্ত সংবিধান বিরোধী কোনো কাজ করেনি। আমার মনে হয় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কোথাও ক্ষুণ্ন করা হয়নি, বরং একটু বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিবের এক বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তারা বুঝুক আর না বুঝুক, সমালোচনার জন্য তাদের সমালোচনা করতে হবে। তাদের যে বৃহত্ পরিকল্পনা ছিল, তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খড়কুটো ধরে তারা সমালোচনা করছেন। সমালোচনা গঠনমূলক হলে তা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিজম করার জন্য উনাদেরকে পড়াশোনা করতে হবে। সেইজন্য আমি উনাদেরকে বলব, আপনারা সংবিধান দেখেন।
 
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল আমার মনে হয় বিধি প্রকাশের পর ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। এই বিধি অনুযায়ী নিম্ন আদালতের বিচারকদের কোনো রকম অসদাচরণ বা অভিযোগ তোলা হয় তাহলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
 
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, এই বিধিমালায় সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের প্রতিফলন ঘটেছে। নিম্ন আদালতের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো কিভাবে পরিচালিত হবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি মনে করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তারা কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার, তা হলে তারা রাষ্ট্রপতিকে জানাতে পারবেন এবং এই পরামর্শের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। কাজেই এটা এখন আর নিম্ন আদালতের যারা বিচারক আছেন বা যারা বিচার সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত আছেন তাদের শৃঙ্খলার ব্যাপারে, তাদের অ্যাডমেনিস্ট্রেটিভ অ্যাকশনের ব্যাপারে কোনো রকম বাধা রইল না।
 
তিনি বলেন, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাঝখানে আমাকেই অবস্থান নিতে হয়। যাকে বলে সেতুবন্ধন। সুতরাং সুপ্রিমকোর্টের একটি আগ্রহ ছিল এটা এতো দিন হচ্ছে না কেন। আর বারে বারে আমাকে সময় নিতে হয়েছে। সেটা আমার জন্য নিশ্চয় বিব্রতকর ছিল। আমার সেই বিব্রতকর অবস্থার পরিসমাপ্তি হলো।
 
আগের খসড়া এবং এখনকার গেজেটের মধ্যে মূল তফাতটা কি জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মূল তফাতটা ছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চেয়েছিলেন সমস্ত ক্ষমতাটা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই থাকবে। সেটা তো সংবিধান বিরোধী একটা অবস্থান। সংবিধানে আছে রাষ্ট্রপতি করবেন কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে। রাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ থাকে কিন্তু রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। এ ব্যাপারগুলোকে বাদ দেয়া যাবে না।
 
বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলার রায় ও নির্দেশনা অনুযায়ী এই বিধিমালা হয়নি। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর শেষ পেরেকটি মেরে দেয়া হয়েছে। এই বিধিমালার কোথাও সুপ্রিম কোর্টের কোনো ভূমিকা বা গুরুত্ব নেই। সুপ্রিম কোর্ট নিজে থেকে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা যখন নিম্ন আদালত পরিদর্শন করেন সে সময় যদি দুর্নীতি বা অসদাচরণের কোনো অভিযোগ তাদের নজরে আসে কেবল সে বিষয়েই অনুসন্ধানের জন্য সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতিকে পত্র দিবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যদি অনুসন্ধানের প্রয়োজন না মনে করেন তা হলে কোনো তদন্তই হবে না। আবার রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করলে যে তদন্ত হবে তাতেও সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য নেই। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে যে খসড়া দেয়া হয়েছিল তাতে তদন্ত কমিটির সভাপতি একজন জেলা জজকে করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিধিমালায় যেটা বলা হয়েছে তাতে আইন মন্ত্রণালয়েরই একজন যুগ্ম সচিব তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। বারের সভাপতি বলেন, বিচারপতিরা অবসরে যেতে পারেন কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় বদলাতে পারে না। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে সেটিই ঘটল।
 
সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এমকে রহমান বলেন, মাসদার হোসেন মামলার রায়ে যে নির্দেশনা রয়েছে তার আলোকে গেজেট প্রণীত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। আর বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য অবশ্যই থাকতে হবে। তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখেছি নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট নিয়ে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলছিল। পরে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বৈঠকের পর সম্মতির ভিত্তিতে গেজেট প্রণীত হয়েছে। যেহেতু এই বিধিমালার সঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলার বিষয়টি জড়িত এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য বজায় থাকবে এটাই কাম্য।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭