আদালত | The Daily Ittefaq

অকার্যকর ধারায় মামলা করছে পুলিশ, আইজিপিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

অকার্যকর ধারায় মামলা করছে পুলিশ, আইজিপিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৩ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৯:২৩ মিঃ
অকার্যকর ধারায় মামলা করছে পুলিশ, আইজিপিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর অকার্যকর হওয়া ১৬ ধারায় থানাগুলোতে অসংখ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করছে পুলিশ। সোমবার হাইকোর্ট অকার্যকর আইনি ধারায় মামলা না নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, অস্তিত্ববিহীন আইন দিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের মামলা গ্রহণের ফলে মানুষের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
 
এ সংক্রান্ত আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামির জামিন শুনানিকালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। 
 
আদালত বলেন, আইনের অকার্যকর ধারায় মামলা করলে সেই মামলার বিচারের সুযোগ নেই। ফলে যিনি অপরাধ সংঘটিত করছেন তাতে আসামিরাই লাভবান হচ্ছে। 
 
তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সরকারের সময়ে একটি অধ্যাদেশ দ্বারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল করা হয়। কিন্তু বিএনপি তা ১৯৯১ সালের সংসদে অধ্যাদেশটি অনুমোদন না করায় তা অকার্যকর হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৬(১) বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কোন কার্য করিতে পারিবে না।’ ১৬(২) এ বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি ক্ষতিকর কোন কার্য করিলে পাঁচ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ 
 
আইনজীবীরা জানান, বিলুপ্ত হওয়ার আগে আইনের ১৬ ধারায় বলা ছিল প্রিজুডিস অর্থাৎ অপরাধ সংগঠনের আগে অপরাধ করা চেষ্টা। যেমন কোনো অপরাধ সংগঠিত করার আগে গোপনে সলাপরামর্শ, ষড়যন্ত্রের মত বিষয়। আইনের এ ধারাটি প্রয়োগের ফলে অপরাধ করেও অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। যেহেতু এই ধারাটিই আর নেই ফলে অপরাধ না করেও অনেককে হয়রানি হতে হচ্ছে।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে ‘ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক’ (প্রধানত সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী) কাজ থেকে বিরত রাখা সংক্রান্ত আইনের ১৬ ধারাটি পুনরুজ্জীবিত করে আবারে আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারিকৃত আলোচ্য অধ্যাদেশসহ ১২২টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন করা হয়নি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা অকার্যকর থেকে যায়। কিন্তু এর পরেও এই ধারায় বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করছে পুলিশ। সেই সব মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করছেন তারা। এসব মামলার জামিন শুনানিকালে অকার্যকর হওয়া ১৬ ধারায় মামলা না নিতে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু এর পরেও বন্ধ হয়নি মামলা নেয়া। 
 
অকার্যকর হওয়া ১৬ ধারায় মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন চান সাজেদুল আলম স্বাধীন ও হাবিবুর রহমান লালু। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা জনমনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছিল। এই মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মন্টু ঘোষ এবং রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ শুনানি করেন। শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, আইনের অকার্যকর ধারায় মামলা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এরপরই হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা না নিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ওই দুই আসামিকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
 
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা বাতিল হয়ে যাওয়ার পরেও ভুলবশত দেশের বিভিন্ন থানায় পুলিশ ওই ধারায় মামলা নিচ্ছে। যেহেতু ওই ধারার কোনো অস্তিত্বই নেই তাই এ আইনে মামলা নেওয়াটা বেআইনি। এ কারণে হাইকোর্ট ওই ধারায় মামলা না নিতে দেশের থানাগুলোকে জানাতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ প্রধানকে এ নির্দেশ দিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪