আদালত | The Daily Ittefaq

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় অবহেলা নয়: হাইকোর্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় অবহেলা নয়: হাইকোর্ট
নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৭:৪০ মিঃ
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় অবহেলা নয়: হাইকোর্ট
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও সহায়তাকারীকে সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা-২০১৮ গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে এ গেজেট জারি করতে স্বাস্থ্য সচিবকে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত এই নীতিমালা আইন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এ রায় দেন। 
 
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, আইনি জটিলতা বা আর্থিক অক্ষমতার কারণ দেখিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা প্রদানে কোন ধরনের অবহেলা দেখানোর সুযোগ নেই। এছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অবকাঠামোগত অবস্থা ও জনবল বিশেষ করে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কত তার তালিকা ছয় মাসের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাম্বুলেন্স কোড জারি করতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য সচিবকে। অর্থাৎ হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে কয়টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে এবং রোগের ধরণ অনুযায়ী সেসব অ্যাম্বুলেন্সে কি কি সুবিধা থাকবে, তা নির্দিষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তির সম্মত্তির বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, জীবন রক্ষার্থে অভিভাবক বা আত্মীয়-স্বজনের অনুমতি ছাড়াই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির অপারেশন করতে পারবেন চিকিৎসকরা। এ ধরনের অপারেশনে রোগীর প্রাণহানি ঘটলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। তবে হাইকোর্ট এ বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান রিটকারী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। 
 
তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এই রায়ের ফলে দেশের যে কোন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত হবে। কারণ রায়ে আদালত বলেছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা প্রদানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের শৈথিল্য দেখাতে পারবে না। 
 
২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিকে নিকটস্থ তিনটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে আরাফাত নামের ওই ব্যক্তি মারা যায়। এ ঘটনার পর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও সৈয়দ সাইফুদ্দিন কামাল নামে এক ব্যক্তি। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সরকারকে একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনার পরই ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগ দেশে প্রথমবারের মতো একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে তা হাইকোর্টে দাখিল করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বুধবার উপরোক্ত রায় দেয়। 
 
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও সুরক্ষা প্রদান নীতিমালায় যা বলা হয়েছে:
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম এমন হাসপাতালগুলো কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসা প্রদান ব্যতিরেকে রোগীকে ফেরত বা স্থানান্তর করতে পারবে না। কোনো হাসপাতাল অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে নিবন্ধন/লাইসেন্স/অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। হাসপাতালে আনার পর আহত ব্যক্তির স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
 
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে চিকিৎসা সেবা প্রদানের পূর্বে তাকে কোনোরূপ হয়রানি বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কোনো পুলিশ স্টেশনে প্রেরণ করা যাবে না। কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে পুলিশ কর্মকর্তা আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া না গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যানবাহনের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২