আদালত | The Daily Ittefaq

বগুড়ায় বিচারকের টেবিলের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ

বগুড়ায় বিচারকের টেবিলের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৭:৫৮ মিঃ
বগুড়ায় বিচারকের টেবিলের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ
বগুড়ায় আদালতে আসামিদের জামিন দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে বিচারকের টেবিলের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
 
পিপি কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়ার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে দক্ষিণপাড়ার আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুল কাদেরের বিয়ে হয়। মরিয়ম তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত ১৫ জানুয়ারি মামলা করেন। সোমবার ওই মামলায় আসামিদের জামিন শুনানি ছিল।
 
আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বাদী পক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট নরেশ মুখার্জী এবং আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট আতিকুল মাহবুব সালাম শুনানি করেন।
 
পিপি নরেশ মুখার্জী জানান, শুনানি শেষে আদালত আসামিদের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন না মঞ্জুর করেন। মরিয়মকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদের বিয়ে করলেও  রেজিস্ট্রি করেন নি। ফলে কোন দেনমোহরও ধার্য করা হয়নি। এই অবস্থায় আসামিরা জামিনে বেরিয়ে গেলে বাদী সবকিছু থেকে বঞ্চিত হবেন।
 
পিপি নরেশ মুখার্জীর অভিযোগ, তার এ বক্তব্যের পরপরই আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুল মাহবুব সালাম এবং সেখানে অন্য একটি মামলা শুনানির জন্য উপস্থিত অ্যাডভোকেট খালেকুল ইসলাম তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন এবং প্রসিকিউশন পরিচালনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
 
ঘটনার সময় এজলাসে থাকা বেশ কয়েকজন আইনজীবী জানান, বিষয়টি নিয়ে পিপি নরেশ মুখার্জী এবং অ্যাডভোকেট খালেকুল ইসলামের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। এর পরপরই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিচারকের টেবিলের কাচ ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে। এর জন্য পিপি নরেশ মুখার্জীকে দায়ী করা হয়েছে।
 
এ ঘটনার পর বগুড়া বারের সিনিয়র আইনজীবী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং সদর থানার ওসি এসএম বদিজ্জামানসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রেজাউল করিম ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে জানান।
 
নরেশ মুখার্জীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেছি। অ্যাডভোকেট আতিকুল মাহবুব সালাম আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অ্যাডভোকেট খালিকুল ইসলামও আমার ওপর চড়াও হন। এরপর বিচারক এজলাস ত্যাগ করলে আমি বেরিয়ে আসি। তারপর কি হয়েছে আমি কিছু জানি না।'
 
আতিকুল মাহবুবের বক্তব্য জানার জন্য আদালত ভবন সংলগ্ন আইনজীবী সমিতিতে তার চেম্বারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। একইভাবে অ্যাডভোকেট খালিকুল ইসলাম খালেককেও পাওয়া যায়নি।
 
তবে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা আইনজীবীদের কাজ হতে পারে না।’ 
 
বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।  পিপিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯