আদালত | The Daily Ittefaq

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়নি চ্যারিটেবল মামলার

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়নি চ্যারিটেবল মামলার
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২০:১৮ মিঃ
খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়নি চ্যারিটেবল মামলার
ফাইল ছবি
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা সেবার জন্য লিখিত আবেদন জানান আইনজীবীরা। 
 
সোমবার ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এদিকে এ মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। আদালত মুন্নার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অপরদিকে অনাস্থা আবেদনের ওপর আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। শুনানিতে তারা বলেন, খালেদা জিয়ার কাস্টডিয়ান আপনি (বিচারক)। তার শারীরিক অবস্থা দিনদিন অবনতি হচ্ছে। আগে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এরপর তিনি সুস্থ হলে আদালতে আসবেন। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০(এ) ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলার যে আদেশ দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। সে পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক। আর একজন অসুস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার বিচারে প্রসিকিউশনের এত তাড়া কেন? 
 
এ পর্যায়ে জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তার আইনজীবীকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয় আদালত। মুন্নার আইনজীবী এম. আমিনুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলার যে আদেশ দেয়া হয়েছে সেটা আইনসিদ্ধ হয়নি। 
 
আদালত বলেন, আপনি যুক্তিতর্কের ওপর শুনানি করুন। আমিনুল ইসলাম বলেন, বকশিবাজার আদালতে ‘কোরাম নন জুডিস’ ছিলো। আজকেও সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের অনুপস্থিতিতে বিচার চলার আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। পাশাপাশি আদালতের পরিবর্তনেরও আবেদন দেব। এ কারণে বিচার কার্যক্রম ২০ কার্যদিবস স্থগিত রাখা হোক। এ পর্যায়ে আবার শুনানির নির্দেশ দিলে আইনজীবী বলেন, এই আদালতের প্রতি আমার আসামির আস্থা নেই। কারণ এখানে বিচার হলে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন না। এরপরই অপর আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামানও জানান, তার আসামি মনিরুল ইসলাম খানের এই আদালতের প্রতি আস্থা নেই।
 
জবাবে দুদক কৌসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামি পক্ষ আদালতের প্রতি অনাস্থা জানাবেন আবার জামিনের মেয়াদ বর্ধিতের আবেদন করবেন এটা কেমন? আদালতের প্রতি অনাস্থা জানালে আসামির জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন দেওয়ার অধিকার থাকে না। তিনি বলেন, যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। যদি তারা কার্যক্রমে অংশ না নেয় তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দিন।
 
‘আদালতের কার্যক্রম নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
শুনানির এক পর্যায়ে দুদক কৌসুলি বলেন, এই আদালত ও বিচার কার্যক্রম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন হচ্ছে। ষড়যন্ত্র কোথায় হচ্ছে তা আমরা যেমন জানি দেশের ১৬ কোটি মানুষও জানে। একজন বুদ্ধিজীবী (ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী) সানাউল্লাহ মিয়াকে আদালত বর্জনের পরামর্শ দিতে পারেন কি? আদালত নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে?
জবাবে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, একজন পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু আমরা কি তাঁর পরামর্শ মানতে বাধ্য? একজন ‘অর্ডিনারি’ মানুষের কথায় আমরা কিছু করি না। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৫