চাকরিচ্যূত মেজর জিয়ার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ড, কিলিং মিশনে ১২ জন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

অভিজিৎ রায়। ছবি: সংগৃহীত

চাকরিচ্যূত মেজর জিয়ার নেতৃত্বেই উগ্রবাদীদের একটি দল ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে বাসা ভাড়া করে আস্তানা গেড়েছিল আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। পরে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনার জন্য দুটি দলে ভাগ হয়ে হত্যা মিশন সম্পন্ন করে। 

ঘটনার প্রায় চার বছর পর এ মামলার চার্জশিটে উঠে এসেছে এমন তথ্য। বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে ২৫ মার্চ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জন জড়িত থাকলেও পাঁচ জঙ্গির পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এক জঙ্গি বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। অভিযুক্ত সব আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। অভিযোগপত্রভুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব (৩৪), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার (২৫), আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম (২৪), শফিউর রহমান ফারাবী (২৯) ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান (৩০)। তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন।

আরো পড়ুন: কোকা-কোলার বোতলে বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিজিৎ দেশে ফেরার পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে উগ্রবাদীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকে। ২২ ফেব্রুয়ারি জাগৃতি প্রকাশনীর সামনে অভিজিৎকে তারা দেখে। সেখান থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যান অভিজিৎ। উগ্রবাদীরা ওই পর্যন্ত তাকে ফলো করে কিন্তু সেদিন তারা কিলিং মিশন সফল করতে পারে না। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫  ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও তারা অভিজিৎকে অনুসরণ করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। 

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশের ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ড. অভিজিৎ রায়কে। এসময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও আহত হন। ওই ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ