‘৫৫৮ অসহায় কারাবন্দিকে জামিনে সহায়তা দিয়েছে এলএএইচপি’

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৩

 

অসহায় কারাবন্দিদের আইনী সহায়তা দিয়ে তাদের কারামুক্তকরণের কাজ করছে মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল এসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স এন্ড পার্সনস (এলএএইচপি)। সংগঠনটি ২০০৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে চলতি বছররের (২০১৯) মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে ৫৫৮ জন অসহায় কারাবন্দিকে জামিনে মুক্ত করেছে। যারা বিনা বিচারে, মিথ্যা মামলায় কিংবা অল্প অপরাধের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারা ভোগ করছিলেন। এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন এলএএইচপির চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম। 

আইনজীবী তৌফিকা করিম জানান, যে সকল ব্যক্তি মামলা সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে অথবা অন্যায়ভাবে যাদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায় তাদেরকে এলএএইচপি ‘অসহায়’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই ধরনের অসহায় কারাবন্দিদের জামিনের জন্য কাজ করে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে হাজতবাস করছেন (ন্যুনতম ৪ মাস) এমন ব্যাক্তি এবং তিনি কোনও ধারায় আটক, এই ধারায় তার শাস্তি যতদিন হতে পারে তার চেয়ে বেশি দিন ধরে কারাবন্দি কি না তা বিবেচনা করে আটক ব্যক্তির জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত যে কোন মামলার ক্ষেত্রে এবং দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারার ক্ষেত্রে আসামি প্রত্যক্ষভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার জামিনের জন্য এলএএইচপি কাজ করে না। তবে এ ধরনের মামলায় আসামিকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে সে ক্ষেত্রে সংগঠনটি জামিনের ব্যাপারে কাজ করে। এছাড়া, যদি কোন মামলার ব্যাক্তিকে অসহায় মনে হয়, আইনজীবীগণ মামলাটি বিশদভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এলএএইচপি'র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

কাজের বিস্তৃতি সম্পর্কে আইনজীবী তৌফিকা করিম বলেছেন, ‘আমরা বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নোয়াখালী, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় এলএএইচপি নিয়োজিত একাধিক প্যানেল আইনজীবীগণের সমন্বয়ে অসহায় কারারন্দিদের আইনী সহায়তা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে দেশের সর্বস্ত্র আমাদের আইনী সহায়তাকে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করার কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘অনেকেই অসহায়ত্ব আর মিথ্যা অভিযোগের দায়ভার মাথায় নিয়ে বিনা বিচারে এখনো জেল খাটছেন দেশে বিভিন্ন কারাগারে। তাদের যেন আর কারাগারের নির্মম অন্ধকারে বিমর্ষ জীবন কাটাতে না হয় সে জন্য কাজ করছে এলএএইচপি। পাশাপাশি আমরা যাদের কারামুক্ত করেছি তাদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। কারামুক্তির পর বাকি জীবনটা যেন সুন্দরভাবে কাটে সে লক্ষ্যে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/কেআই